Skip to main content

Brick Lane News

উপনিবেশবাদ ও রাষ্ট্রকাঠামো: ইতিহাস ও ক্ষমতাচর্চার এক বিশ্লেষণ

উপনিবেশবাদ ও রাষ্ট্রকাঠামো: ইতিহাস ও ক্ষমতাচর্চার এক বিশ্লেষণ

ঔপনিবেশিক রাজনীতি ও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ‘উপনিবেশবাদ’ বা ‘কলোনিয়ালিজম’ শব্দটির উৎস ও রাজনৈতিক তাৎপর্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। মূলত ল্যাটিন শব্দ ‘কলোনিয়া’ ও ‘কোলেরে’ থেকে উদ্ভূত এই ধারণার বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি এমন একটি প্রক্রিয়ার নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র বলপূর্বক বা কৌশলে অন্য কোনো ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজ নাগরিকদের সেখানে বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করে। এই শাসনব্যবস্থা নিছক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তারের এক কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স এগেইনস্ট রেসিজম, রেশিয়াল ডিসক্রিমিনেশন, জেনোফোবিয়া অ্যান্ড রিলেটেড ইনটলারেন্সের ২০০১ সালের ডারবান ঘোষণা অনুযায়ী, উপনিবেশবাদ বর্ণবাদ, ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার জন্ম দিয়েছে। এই ঘোষণার তথ্যমতে, আফ্রিকান, এশীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ উপনিবেশবাদের শিকার হয়েছেন এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব আজও তারা বহন করছেন।

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের এই তাত্ত্বিক কাঠামো বুঝতে শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উৎস নিচে তুলে ধরা হলো

  1. এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ, ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’, পৃষ্ঠা ৮।
  2. মিশেল ডব্লিউ ডয়েল, ‘এম্পায়ার্স’, পৃষ্ঠা ৪৫।
  3. নায়ল ফার্গুসন, ‘এম্পায়ার: হাউ ব্রিটেন মেইড দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড’, পৃষ্ঠা ২৫।

প্যালেস্টাইনি বংশোদ্ভূত খ্যাতিমান মার্কিন বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ উপনিবেশবাদকে সাম্রাজ্যবাদের একটি উপজাত হিসেবে দেখেছেন, যেখানে দূরবর্তী কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তার অধিকৃত অঞ্চলের ওপর আধিপত্য কায়েম করে। অন্যদিকে, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৯১৭ সালে সাম্রাজ্যবাদকে পুঁজিতন্ত্রের চূড়ান্ত বিকশিত রূপ বলে চিহ্নিত করেন, যেখানে উপনিবেশবাদ তার একটি অপরিহার্য উপাদান। ডয়েলের মতে, সাম্রাজ্যবাদ হলো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও তা ধরে রাখার নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, যার সাথে বর্ণবাদ ও পুরুষতন্ত্র গভীরভাবে যুক্ত থাকে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ইউরোপীয় শক্তির শোষণের অধীনে ছিল। পর্তুগাল ও স্পেনের সমুদ্রভিত্তিক বাণিজ্যের হাত ধরে এর সূচনা হলেও, পরবর্তীতে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের মতো রাষ্ট্রগুলো শক্তিশালী কর্পোরেট কোম্পানির মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে। বিশেষ করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০-১৮৭৪) এবং ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পেছনে ক্যারিবীয় অঞ্চলের চিনির চাহিদা মেটানো এবং এশিয়ার বাজারে মশলা, চা ও বস্ত্র বাণিজ্যের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঔপনিবেশিক শাসন কেবল ভূখণ্ড দখল করেনি, বরং উপনিবেশিত জনপদগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় এমন পরিবর্তন এনেছে যার রেশ আজও বিদ্যমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি – ১। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Colonialism has led to racism, racial discrimination, xenophobia and related intolerance [। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Africans and people of African descent, and people of Asian descent and indigenous peoples were victims of colonialism and continue to be victims of its consequences. -Durban Declaration of the World Conference against Racism, Racial Discrimination। 2001. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহের সাধারণ পরিচয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বিস্তার ও শাসন-শোষণের নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে ধারণাও আমাদের এই আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিশেষে আমরা আলোচনা করব, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রত্যক্ষ অবসানের পরও ‘স্বাধীন’ দেশগুলোতে কীভাবে নানা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রের জনস্বার্থপরায়ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে অন্তরায় হিসেবে জারি থাকে এবং সেই অন্তরায়গুলো অতিক্রম করার জন্য কীভাবে ঔপনিবেশিক অবশেষগুলোর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপনিবেশবাদ শব্দটি, রাজনীতি-সচেতন পাঠকমাত্রই অবগত, ইংরেজি ‘colonialism’ শব্দের বাংলা অনুবাদ।