Skip to main content

Brick Lane News

মৃত্যুদন্ডের রায়ে উত্তাল সামাজিক মাধ্যম: অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেতা-কর্মীরা

মৃত্যুদন্ডের রায়ে উত্তাল সামাজিক মাধ্যম: অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেতা-কর্মীরা

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন নেতার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে আসামিদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতে দেওয়া এই রায়কে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

একতরফা রায়ের অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার ঝড় ওঠে। আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আসামিদের নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতে অনেকটা স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় এই রায় দেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলছেন, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত।

রায়ের বিস্তারিত ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, মামলার শুরু থেকেই এই সাতজন অভিযুক্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ে দেশের বাইরে  ছিলেন।

আদেশে ট্রাইব্যুনাল আরও জানিয়েছেন যে, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পত্তি জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়া ও আইনি প্রেক্ষাপট গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক থাকা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু অভিযুক্তরা আত্মগোপনে ছিলেন, তাই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গত ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। আজ তাদের সেই প্রত্যাশিত রায়ই ঘোষণা করা হলো।

প্রসঙ্গত,  জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দেওয়া এই রায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, বিচারিক প্রক্রিয়াটি তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযুক্তদের অনুপস্থিতি এবং আইনি কাঠামোর ঘাটতি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যে ব্যাপক ক্ষোভ, তা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।