Skip to main content

Brick Lane News

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড : আতঙ্ক ও পদদলনে প্রাণহানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড : আতঙ্ক ও পদদলনে প্রাণহানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ধোঁয়া ও আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দুর্ঘটনা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস। কারণ ও দায় নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেকহ) এক অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সৃষ্ট আতঙ্ক এবং দ্রুত বের হওয়ার হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ধোঁয়া এবং পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও হাসপাতালগুলোর দুর্যোগকালীন জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও আতঙ্ক

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড বা সংযোগস্থল থেকে হঠাৎ ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া সংলগ্ন ওয়ার্ডগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী এবং স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সৃষ্ট চরম আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রোগী ও তাদের স্বজন রয়েছেন। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও মূলত ধোঁয়ার বিস্তার এবং জরুরি নির্গমন পথের সংকীর্ণতার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ভবনের একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া সংলগ্ন ওয়ার্ডগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। সংকীর্ণ করিডোর ও অপর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথের কারণে একসঙ্গে বহু মানুষ বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সিড়ি ও দরজার মুখে তীব্র ধাক্কাধাক্কি ও পদদলনের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, “আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না, তবে সীমিত পরিসরে অতিরিক্ত ধোঁয়া সৃষ্টি হওয়া এবং বের হওয়ার মুখে হুড়োহুড়ির ফলেই হতাহতের মাত্রা বেড়েছে।”

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দুর্বলতা

এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশের জনবহুল সরকারি হাসপাতালগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

  • ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড়: সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ও স্বজনের অবস্থানের কারণে জরুরি মুহূর্তে কার্যকর স্থানান্তর কঠিন হয়ে পড়ে।

  • নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব: নিয়মিত ‘ফায়ার ড্রিল’ বা জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

  • তদন্ত কমিটি গঠন: ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং নিরাপত্তা ঘাটতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কেবল তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার, প্রশস্ত জরুরি বহির্গমন পথ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা এখন সময়ের দাবি।