Skip to main content

Brick Lane News

মৃত্যুদণ্ডের রায়ে উত্তাল নেটদুনিয়া: ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান

মৃত্যুদণ্ডের রায়ে উত্তাল নেটদুনিয়া: ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান

ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সদ্য ঘোষিত সাত রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আছড়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। রায় ঘোষণার পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’, ‘প্রহসন’ এবং ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। অনলাইনের এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজপথেও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের দাবানল রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেটদুনিয়া কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্ক্রিনশট ও পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবাদকারীদের মূল অভিযোগ বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভেরিফায়েড পেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেতার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এই রায়কে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের পূর্বনির্ধারিত প্রহসনের রায়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায় আমরা মানি না, মানব না।” কেউ কেউ এই রায়কে ‘হাস্যকর ট্রায়াল’ বলে মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকেই তীব্র ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “কেজি দরে বেচাকেনা চলছে মৃত্যুদণ্ড।” সামাজিক মাধ্যমের এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে স্পষ্ট যে, দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত এই রায় নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপট ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাদের বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছে—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান—তারা কেউই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন না।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের আকস্মিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও প্রাণহানির প্রবল আশঙ্কায় তারা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি পরিস্থিতিতে যেখানে তাদের দেশে থাকা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো নিরাপদ পরিবেশ ছিল না, সেখানে একতরফাভাবে এই রায় ঘোষণা কতটা যৌক্তিক? সংস্কৃতিকর্মী ও নেতারা এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘বাংলাদেশ ধ্বংসের নীল নকশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রাজপথে প্রতিবাদ ও ভবিষ্যতের হুঁশিয়ারি অনলাইনের এই ক্ষোভ কেবল ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মাদারীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, আদালত প্রাঙ্গণেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

দলের সাবেক ছাত্রনেতারা সামাজিক মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ খুব শিগগিরই ‘১/১১’-এর মতো ঝলসে উঠবে এবং সেই দাবানলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে, সদ্য ঘোষিত এই রায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপের সৃষ্টি করেছে। আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে রায়টি এলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বতঃস্ফূর্ত ও তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, একটি বড় অংশ এই বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। এই রায় আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাত বা অস্থিরতার জন্ম দেয় কি না, রাজনীতি বিশ্লেষকেরা এখন সেদিকেই নজর রাখছেন।