আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে সাধারণ মানুষও জিতবে এবং এই অর্থ পাবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’।
তবে বিশ্লেষকরা এই প্রস্তাবটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। কারণ এই প্রকল্পের জন্য কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে, কিন্তু ট্রাম্প এই বিশাল তহবিলের উৎস সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তিনি কেবল দাবি করেছেন যে, দেশ বর্তমানে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এদিকে জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে নিজের নাম ব্যালটে না থাকলেও ভোটারদের তাকে প্রার্থী হিসেবে কল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা ধরে নিন আমি ব্যালটে আছি।” ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা হাউজে ২৩৫-২০৫ এবং সিনেটে ৫১-৪৯ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কাছাকাছি চলে আসায় তিনি এই যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জয়ের পথে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমবে এবং নিত্যপণ্যের দামও দ্রুত হ্রাস পাবে। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে দেশ ‘কমিউনিস্ট’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, “আপনার একটি ভোটই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে আমাদের দেশ হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে, নাকি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে।” প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক জনমত জরিপের ফলাফল অনুসারে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং এখন ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাবারের দামসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম দ্রুত কমে আসছে।