সানু মিয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন
পূর্ব লন্ডনের জনপ্রিয় যুব সংগঠক প্রয়াত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সানুমিয়াকে (১৯৬৬ – ২০১৬) স্মরণে গত ৮ মে ২০২৬ পূর্ব লন্ডনেরমাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দএকত্রিত হয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা তাঁকে কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষহিসেবে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেনস্বাধীন খসরু । অনুষ্ঠানের শুরুতে যৌথ আয়োজক ও সানু মিয়াকে নিয়েপ্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যেসানু মিয়ার দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ওসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর সদস্য আলী, জয়নালউদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল তাঁদের স্মৃতিচারণায় সানুমিয়াকে একজন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও মানুষের পাশে থাকা ব্যক্তিহিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সানু মিয়ার বোন জানা, সাবেক টাওয়ারহ্যামলেটস্ কাউন্সিলর নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখকময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিনহায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল আহমেদ খান, ইয়াসমিন, সালেহা, সেচ্ছাসেবক লীগের চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ সাদ , যুক্তরাজ্য নির্মূলকমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্টরাজনউদ্দিন জালাল এবং বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনেরসভাপতি হরমুজ আলী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলেতানিম। পারভীন কথা বলতে গিয়ে এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।বক্তারাবলেন, সানু মিয়া ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি সারাজীবনকমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্তহয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বেশাপলা ইয়ুথ ফোর্স ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। তিনি যুক্তরাজ্যনির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং একজন সুপরিচিত কর্মীহিসেবে সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেবার পার্টির সক্রিয়কর্মী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনকরেন এবং ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক।
সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেনআনসার আহমদ উল্লাহ। তিনি সানু মিয়ার মা, হামিদা বেগমের হাতেস্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন এবং পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও তাবিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে স্বাধীন খসরু স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে সহায়তাপ্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি জুয়েল রাজকে পুরোগ্রন্থটি টাইপ করার জন্য, হামিদ মোহাম্মদকে সম্পাদনার জন্য, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদকে প্রকাশনার জন্যে এবং আরিফকে ডিজাইনের জন্যকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্যপ্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় অনেকেইআবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীর স্মৃতির প্রতিগভীর শ্রদ্ধা জানান।