Brick Lane News

যুক্তরাজ্যের নতুন শরণার্থী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে দুই সুদানি

যুক্তরাজ্যের নতুন শরণার্থী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে দুই সুদানি

যুক্তরাজ্য সরকারের ঘোষিত নতুন শরণার্থী নীতিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সুদানের দুই আশ্রয়প্রার্থী। সরকারের নতুন পরিকল্পনায় শরণার্থীদের আশ্রয়ের মেয়াদ কমানো এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত করার প্রতিবাদে এই আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই নীতি অত্যন্ত অমানবিক এবং এটি শরণার্থীদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শরণার্থীদের ব্রিটেনে থাকার প্রাথমিক অনুমতির মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হচ্ছে। আগে যেখানে ৫ বছর বসবাসের পর স্থায়ীভাবে থাকার (ILR) আবেদন করা যেত, নতুন নিয়মে সেই সুযোগ পেতে একজন শরণার্থীকে দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের অবস্থানের বৈধতা বারবার পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হবে। আদালতকে ওই দুই সুদানি জানিয়েছেন, তারা নিজ দেশে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন এই নিয়ম তাদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে জীবনকে আরও জটিল করে তুলবে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থাগুলোও ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার পুনর্মূল্যায়নের কারণে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে শরণার্থীরা সমাজে নিজেদের মানিয়ে নিতে বা অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হতে বাধাগ্রস্ত হবেন। এছাড়া নতুন নীতিতে শরণার্থীদের পরিবার আনার সুযোগও আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে, যা আগে অনেক সহজ ছিল। যদিও সরকার দাবি করছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে আইনজীবীদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো পরোক্ষ বৈষম্য সৃষ্টি করছে, যার চূড়ান্ত ফয়সালা এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুন – 

চিকিৎসক সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ পথ: যুক্তরাজ্যের অর্ধেক হাসপাতালেই ডাক্তারের কাজ করছেন নার্স ও প্যারামেডিকরা