Brick Lane News

সাত দিনের মাথায় একই পরিবারের তিন শিশু হামে আক্রান্ত

সাত দিনের মাথায় একই পরিবারের তিন শিশু হামে আক্রান্ত

সাত দিনের মাথায় একই পরিবারের তিন শিশু আক্রান্ত হয় হামে। এদের মধ্যে দুজনের হামের টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে গাজীপুরের ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে। তাদের মতো চলতি আরও ২০ জন ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে তিন মাসের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক হামের রোগীও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থিত ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় হামে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা যৌথ পরিবার। প্রথমে ১০ মাস বয়সি ইরহাম, পরে ৯ মাস বয়সি আরিয়ান, ৯ মাস বয়সি আনাস হামে আক্রান্ত হয়। সাত দিনের মধ্যে সবাই আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে আমরা বুঝিনি, পরে এই হাসপাতালে আসলে হাম ধরা পড়ে। পরে তাদের তত্বাবধানে আমাদের বাচ্চারা সুস্থ, আজই হয়তো রিলিজ দেবে।

আক্রান্ত শিশু আরিয়ানের মা বলেন, আমার সন্তানের বয়স ৯ মাস, টিকা দেওয়ার আগেই হাম হয়েছে। কয়েক দিন ধরে মার্সি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে প্রায়। কারও সন্তানের যেন হাম না হয়, সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।

ওই পরিবারের সদস্য আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা তিন ভাই। প্রত্যেকের পরিবারে ছোট বাচ্চা, এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই হামে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি আরও অনেক শিশু ভর্তি। আমাদের সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ আফরোজা পারভীন বলেন, হামের রোগী বেড়েছে। তবে কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে চলতে হবে।

শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা নার্গিস বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আমাদের হাসপাতালেও অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে একটি পরিবারের তিন শিশুও রয়েছে। একই পরিবারের তিনজন আক্রান্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।

একটি শিশু জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে কিছু অ্যান্টিবডি নিয়ে আসে। যা ছয় মাস পর্যন্ত শিশুটিকে সুরক্ষা দেয়। আমাদের হামের টিকা যেহেতু দেওয়া হয় ৯ মাসে, মাঝে এই দুই-তিন মাসে শিশুর রক্তে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। ফলে এই সময় হাম বেশি হয়।

ডিভাইন মার্সি হাসপাতালের সিইও ড. আহমেদ শফিকুল হায়দার বলেন, পত্রপত্রিকা ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী কয়েকশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিল, তারা টিকার গুরুত্ব ভালোভাবে দেখেননি, অথবা বোঝেননি। তারা ইউনিসেফের নির্দেশনা ও মানেননি, তার কারণে আজকে এই অবস্থা।