ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই দিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করে জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। তবে বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরোয়ানা জারির পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে একটি সাদা গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় কালো পোশাক পরা নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে বাদীর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গালমন্দ ও মারধর করা হয়। এ সময় একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।