Skip to main content

Brick Lane News

সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব প্রেমিক, আবিষ্কার করলেন প্রেমিকা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব প্রেমিক, আবিষ্কার করলেন প্রেমিকা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের টানে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৪৯ বছর এক ব্যক্তি জানতে পারেন, তাঁর স্বপ্নের নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এর আগে ওই নারীকেই বিয়ে করার আশায় তিনি নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে ব্রাজিলের এডিমার মার্তিনস নামে ওই রাজমিস্ত্রিকে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হয়। তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং বাড়ি ফেরার বাসের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেন সমাজকর্মীরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্তিনস ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও প্রদেশের বাসিন্দা। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট তার নজরে আসে। ওই নারী ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন।

অ্যাকাউন্টটিতে তিন লাখের বেশি অনুসারী ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে এক নারীকে খামারে শান্ত ও সুন্দর গ্রামীণ জীবনযাপন করতে দেখা যেত। পাশাপাশি তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে এসে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন এবং থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতেন।

মার্তিনসের জীবনে তখন একাকিত্ব নেমে এসেছিল। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ওই নারীকে ঘিরে নতুন করে জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। তার বিশ্বাস জন্মেছিল, ওই নারীই হতে পারেন তার জীবনসঙ্গী।

অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই নারী চরিত্রটি মার্তিনসকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং নিজের খামারে থাকার জায়গা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন মার্তিনস। গত ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করেন তিনি। এরপর বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণ করে ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে শুরু হয় তার হতাশার অধ্যায়। ওই নারীর ছবি সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকেন মার্তিনস। পথচারীদের ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, কেউ তাকে চেনেন কি না। কিন্তু কেউই ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত তিনি স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। যে নারীকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এত দূর এসেছেন, তিনি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।

মার্তিনস বলেন, “এতে শুধু দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই আসে। অনেকেই একটা সম্পর্ক চান, তাই আমিও তাকে চেয়েছিলাম।”

পরে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি স্বীকার করেন, নারী চরিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। তবে মার্তিনসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ওই ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটির উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী ও সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে পরে সেটি বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করা। তিনি দাবি করেন, ওই চরিত্রের মাধ্যমে কারও সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়নি।

এদিকে ভ্রমণের পেছনে নিজের সব টাকা খরচ করে ফেলায় বেলো হরিজন্তে শহরে আটকা পড়েন মার্তিনস। পরে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চান তিনি। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের ব্যবস্থা এবং বাড়ি ফেরার বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।

এত বড় হতাশার মুখে পড়েও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্তিনস। বর্তমানে তিনি পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে থাকছেন। ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে সংসার করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আবারও বেলো হরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মার্তিনস বলেন, “তাকে খুঁজে পাইনি। তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই আবার যাব।”

দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্তিনস ছিলেন তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি বেলো হরিজন্তে গিয়ে এমন এক নারীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই বলে পরে জানা যায়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা, অনলাইন সম্পর্কের স্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আবেগের টানে অপরিচিত কারও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে অর্থ ব্যয় বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পরিচয় ও বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনা সামনে এনেছে।