ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে আন্তব্যাংক ও খোলাবাজার—উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন ডলারের দাম লাগাতার বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকে দাম কমেনি। গত ৪ নভেম্বর সকালেও প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক লেনদেনের বিপরীতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরবরাহ না বাড়ায় ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনের অর্থ পরিশোধের চাহিদা বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ একই থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ডলারের দাম বাড়বে। রেমিট্যান্স থেকে কিছু চাহিদা পূরণ হলেও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিকে নিয়মিত বাজার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রির প্রস্তাব দিলে আগ্রহী ব্যাংকগুলো নির্ধারিত দরে তা কিনতে পারে। ডলার কেনাবেচা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
অন্যদিকে, খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে। সেখানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৯ টাকায়। ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে চাপের প্রভাব পড়ছে দেশের মুদ্রাবাজারে।