প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ভবনে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। টার্মিনালের ছাদ, দরজা ও গ্যাংওয়েসহ বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার লিকেজ বা ছিদ্র শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশনের অভ্যন্তরীণ নথি।
উদ্বোধনের আগেই এমন ত্রুটি ধরা পড়ায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ত্রুটিগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য টার্মিনালের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার এডিসিকে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম নুরুদ্দীন।
সিভিল এভিয়েশনের নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ঠিকাদার এডিসি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে থার্ড টার্মিনালের বিভিন্ন ত্রুটি পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। পরিদর্শনের সময় তিনি ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি প্রবেশের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা জরুরি। তা না হলে কয়েক বছরের মধ্যে পানি কাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুধু চিহ্নিত স্থানগুলো নয়, টার্মিনালের কোথাও অন্য কোনো স্থানে পানি প্রবেশ করছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জরিপ করা প্রয়োজন। বড় প্রকল্প হওয়ায় শুরুতেই সমস্যাগুলো শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত। তার মতে, প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত মানের কাজ করতে পারেনি। বিদেশি ঠিকাদার ও পরামর্শক নিয়োগে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মানের স্থাপনা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে থার্ড টার্মিনালের ত্রুটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ঠিকাদার এডিসি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকেও ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনালের বিভিন্ন ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঠিকাদারকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই ত্রুটিগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে প্রকল্পের নির্মাণকাজের তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।