Skip to main content

Brick Lane News

এশিয়ান গেমসে হতাশাজনক ফল: ফেডারেশনগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নতুন কমিটি

এশিয়ান গেমসে হতাশাজনক ফল: ফেডারেশনগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নতুন কমিটি

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, গেমসে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ফেডারেশনের সার্বিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ক্রীড়াবিদদের ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আয়োজিত সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গেমসে প্রাপ্ত ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ঢেলে সাজানো হবে। শুধু ফুটবল নয়, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফেডারেশনকে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ফেডারেশনের প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং আনুষঙ্গিক সব বিষয় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোথায় ভুল হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। শুরুতে ফল ভালো বা খারাপ— দুই ধরনেরই হতে পারে।

ফুটবল ফেডারেশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেডারেশন তাদের নিজস্ব পর্যালোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটির ইতিবাচক ফলাফল পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের সাম্প্রতিক ফলাফল নিয়ে তিনি এখনই খুব বেশি হতাশ হতে চান না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি, সেটার ফল সামনে আরো ভালোভাবে পেতে চাই।

স্টেডিয়ামের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। দেখা গেছে, সরকার যেখানে মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া পায়, সেখানে হাত বদল হয়ে ওই দোকান থেকেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশই সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না। তবে শুরুতেই এ নিয়ে অতিরিক্ত হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভাড়া কাঠামোতে দৃশ্যমান উন্নতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কমলাপুর, ঢাকা এবং মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন ভেন্যুর ভাড়া কাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠের পরিবেশ ক্রীড়াবান্ধব করতে কমলাপুর স্টেডিয়াম থেকে অবৈধ রিকশা গ্যারেজ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সাত মাসে দেশের ৬৪টি জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। কমলাপুর স্টেডিয়ামসহ কয়েকটি জায়গায় থাকা রিকশার গ্যারেজ বন্ধ করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণেই এমনটি ঘটেছে। ভবিষ্যতে একক সিদ্ধান্তে এমন বড় কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শাস্তির মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা বা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।