কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি ভবনে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের দীর্ঘ ২১ মাসের ভাড়া বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির মালিক মো. ফাহাদ দাবি করেছেন, ভাড়া পাওয়ার জন্য তিনি বারবার তাগাদা দিলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা কেবল সময়ক্ষেপণ করছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দোকানটি বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্যসচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘ঈদের সময় ভাড়া চেয়েছিলাম। তারা দেবেন, দিচ্ছেন বলে শুধু সময় দিচ্ছেন।
মালিকের ভাষ্যমতে, আগে ওই দোকানটি অটো গ্যারেজের জন্য ভাড়া দেওয়া ছিল এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা অগ্রিমসহ মাসে ১৪ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়া যেত। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় অফিসের জন্য ভাড়ার পরিমাণ কমিয়ে মাসে ১০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ফাহাদ বলেন, দীর্ঘ ২০ মাস পার হয়ে এখন ২১তম মাস চলছে, কিন্তু নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে কেবল একবার ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন সময়ে পাওনা টাকা চাইলেও বারবার আশ্বাস দিয়েও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। টাকা খুঁজতে খুঁজতে আমরা হয়রান হয়ে গেছি।’। এরপর থেকেই ভাড়া নিয়ে তাদের সঙ্গে সমস্যা চলছে বলে জানতে পেরেছি।’। এর বেশি কিছু আমি এখন বলতে পারছি না।’।
তবে ভবন মালিকের এই অভিযোগকে সত্য নয় বলে দাবি করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দাবি করেন, বকেয়ার পরিমাণ ২১ মাস নয়, বরং প্রায় ১০ মাসের কাছাকাছি। জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্যমতে, গত মাসে তাদের উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কমিটি পুনর্গঠিত হলে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করা হবে, অন্যথায় অফিস ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া ভবনটি মূলত তিনি আমিনুল ইসলাম নামের একজনের কাছ থেকে সাব-লিজ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। আর যদি কমিটি গঠন না হয়, তাহলে অফিস ছেড়ে দেব।’’।
অটো গ্যারেজের মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম তার কাছ থেকে জায়গাটি বুঝে নিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি নেতাকে সরাসরি মূল মালিক ফাহাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এদিকে এই ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, অফিসটি উপজেলা বিএনপি গ্রহণ করলেও বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ না করে তিনি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তখন আমি তাকে বলি, এটি জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ফাহাদের দোকান।