Skip to main content

Brick Lane News

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, দেশজুড়ে চলছে সর্বাত্মক ধর্মঘট

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, দেশজুড়ে চলছে সর্বাত্মক ধর্মঘট

বেতন বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিক্ষা খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি (CGT) দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে শুরু হওয়া অসন্তোষ ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষা খাতে অর্থায়ন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি এখন বেতন বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার উন্নয়নের দাবিও যুক্ত হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। তবে ৫ নভেম্বরের কর্মসূচির অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ ছিল। যদিও প্যারিস, লিওঁসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের ঘটনায় ৪৪৮ জনকে আটক করা হয় এবং ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

বিক্ষোভের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নেন। এতে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, রেল যোগাযোগসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষক ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন। রেল চলাচল ও পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়ে।

শুরুতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নামে। পরে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনটি দেশজুড়ে বৃহত্তর বিক্ষোভে রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে বেতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী ৯ নভেম্বর এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।