Skip to main content

Brick Lane News

ব্রিটেন-ইইউ নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে জনপ্রিয় ৫ খাবার

ব্রিটেন-ইইউ নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে জনপ্রিয় ৫ খাবার

ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন খাদ্য ও কৃষি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশটির জনপ্রিয় কয়েকটি খাবারের নাম ও বিক্রিতে বিধিনিষেধ আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রাসেলসের সঙ্গে এই চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগামী ২০ নভেম্বর বেলজিয়ামে ইইউর সঙ্গে যৌথ সম্মেলনের আগে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বড় ধরনের চুক্তি ঘোষণা করতে পারেন বার্নহাম। প্রস্তাবিত স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) চুক্তির আওতায় ব্রিটেনকে ইইউর খাদ্য ও কৃষি-সংক্রান্ত বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হতে পারে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের ক্ষেত্রে মাংসের নাম ব্যবহার নিয়ে ইইউর ৩১টি নিষিদ্ধ পরিভাষার তালিকা রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে এসব নিয়ম ব্রিটেনে কার্যকর হলে মাংস ছাড়াই তৈরি কিছু জনপ্রিয় খাবারের নাম পরিবর্তন করতে হতে পারে।

এ তালিকায় রয়েছে ওয়াকার্সের স্মোকি বেকন ক্রিস্পস। মাংস ছাড়াই তৈরি হলেও খাবারটির নামে বেকন শব্দ থাকায় ইইউর বিধিনিষেধের আওতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে জনপ্রিয় পট নুডল, বিশেষ করে চিকেন অ্যান্ড মাশরুম স্বাদের পণ্য। নির্মাতাদের হয়তো নাম পরিবর্তন করতে হবে, নয়তো পণ্যে প্রকৃত মাংসের নির্যাস যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে।

বিফ-ফ্লেভারড মনস্টার মাঞ্চও সম্ভাব্য বিধিনিষেধের তালিকায় রয়েছে। ফাঁস হওয়া যুক্তরাজ্য-ইইউ চুক্তির কিছু অনুচ্ছেদে উদ্ভিদভিত্তিক উপাদানের স্বাদের নামকরণ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভেজিটেরিয়ান সসেজ ও বার্গারের নাম নিয়েও আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উদ্ভিদভিত্তিক এসব খাবারকে সসেজ বা বার্গার নামে বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়ে ইইউতে আপত্তি উঠেছিল। তবে পল ম্যাককার্টনির সমালোচনার পর পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সমঝোতায় সসেজ ও বার্গারকে নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংস নয়, বরং খাবারের আকৃতি বোঝানো শব্দ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়।

শুধু খাবারের নাম নয়, ব্রিটেনের কৃষি খাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন (এনএফইউ) এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের আশঙ্কা, ব্রিটিশ কৃষকেরা বর্তমানে এমন কিছু ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন, যেগুলো ইইউতে অনুমোদিত নয়। নতুন চুক্তিতে ইইউর নিয়ম অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদিত ফসল নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে এসব ফসল থেকে উৎপাদিত ওটস বা যবজাতীয় শস্য দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে।