Skip to main content

Brick Lane News

ব্রিটেনের নতুন অভিবাসন নীতি: কারও মুখে স্বস্তির হাসি, কারও চোখে অন্ধকারের আশঙ্কা

ব্রিটেনের নতুন অভিবাসন নীতি: কারও মুখে স্বস্তির হাসি, কারও চোখে অন্ধকারের আশঙ্কা

ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন এই নীতির কারণে কিছু অভিবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও, দীর্ঘদিন দেশটিতে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা কিছু অভিবাসীর স্থায়ী হওয়ার সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা আবাসন ভাতাসহ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী আনেইশা উইলিয়ামস। ব্রিটেনে টানা ১০ বছর বসবাসের পর তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের মাত্র কয়েক মাস দূরে ছিলেন। কিন্তু আবাসন ভাতা দাবি করার কারণে নতুন পরিকল্পনায় তার স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়া কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উইলিয়ামস বলেন, “আমাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কেবল তখনই, যখন তাদের প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন হয়—যেমন করোনাভাইরাস মহামারির সময়। কিন্তু এরপর আমাদের এমনভাবে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যেন আমরা কোনো আবর্জনা।”

অন্যদিকে, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় কিছু পরিচর্যা খাতের কর্মী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এসব কর্মীর অনেকে নতুন ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের বিদেশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে—নতুন নিয়মে তাদের স্থায়ী বসবাসের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো, ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদান ও যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কীভাবে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমাকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। কারও কাছে নতুন ঘোষণা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও অন্যদের জন্য তা দীর্ঘদিনের বসবাসের পরও স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত করে তুলেছে।