ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বিকৃত করা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে এই উদ্যোগ নেওয়ার আগে এর আগে প্রতিকৃতিটিতে কালি লাগানোর পাশাপাশি রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টারও সাঁটানো হয়েছিল।
শনিবার দুপুরে বিকৃত করা দেয়ালচিত্রটি পরিদর্শন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি ঘটনাটিকে ‘অসম্মানজনক ও বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি পুনরায় আঁকার ঘোষণা দেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেয়ালে খুলনার ঐতিহ্য, উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিও রয়েছে। কিন্তু কে বা কারা তাঁর প্রতিকৃতিতে কালো কালি লেপন করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসম্মানজনক।
তিনি বলেন, মানুষের পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। তবে তা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা অমর্যাদাকর, জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কিংবা বিদ্বেষ ছড়ায়। একটি ছবি মুছে দিয়ে একজন মানুষকে অস্বীকার করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে কেসিসি প্রশাসক বলেন, সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষমুক্ত এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হয়, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
দেয়ালচিত্র বিকৃতির ঘটনায় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশকে বলা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি আঁকে কেসিসি। তবে শিববাড়ী মোড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বক্তব্যসংবলিত রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টার সাঁটানো হয়। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি রয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে কেসিসির এ উদ্যোগ প্রশংসা পেলেও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃতির ঘটনায় নগরজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, শুক্রবার সড়কের বিপরীত পাশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ কারণে কারা কখন দেয়ালচিত্রটি বিকৃত করেছে, তা জানা যায়নি। বিষয়টি জানার পর পুলিশ খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে।