সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাবার হাতে দুই শিশু সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সুনামগঞ্জের পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই দুই সন্তানের মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো, উপজেলার শ্যামারচর মধুপুর গ্রামের কামরুল মিয়ার ছেলে মুহাদ্দিস মিয়া (৭) ও মেয়ে তুলনা আক্তার (৪)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার থেকে মুহাদ্দিস ও তুলনা নিখোঁজ ছিল। সন্তান দুজন নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের বাবা কামরুল মিয়া স্থানীয়দের জানান, শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে এবং তিনি তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না। এরপর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
তবে কামরুল মিয়ার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে মঙ্গলবার গ্রামবাসী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাপ দিলে তিনি জানান, বুধবার সকালে সন্তান দুজনের বিষয়ে জানাবেন।
বুধবার সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কামরুল মিয়া তার দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিরাই-সিলেট সড়কের মদনপুর এলাকায় দেখার হাওর ও জাউয়া এলাকা সংলগ্ন হওরে থেকে পৃথকভাবে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের বাবা কামরুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটে। কামরুলের স্ত্রীর সঙ্গে মায়ের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এই ক্ষোভের জেরে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।