বেইজিং: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১০০ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গ্রহাণুর কাছাকাছি পৌঁছেছে চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’। মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই মিশনটি পরিচালনা করছে চীন।
সোমবার (৬ জুলাই) চীনের মহাকাশ সংস্থা (সিএনএসএ) আনুষ্ঠানিকভাবে যানটির গন্তব্যে পৌঁছানোর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় তিয়ানওয়েন-২। এটি কোনো গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য চীনের প্রথম মহাকাশ মিশন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং, যার মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘোষিত ‘স্পেস ড্রিম’ বা মহাকাশ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
২০ কিলোমিটার দূর থেকে গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ সিএনএসএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রায় ৪০০ দিনের দীর্ঘ যাত্রার পর তিয়ানওয়েন-২ সফলভাবে গ্রহাণুটির ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরত্বের মধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সেখানে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
সংস্থাটি মহাকাশ থেকে তোলা গ্রহাণুটির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। ‘২০১৬ এইচও৩’ (2016 HO3) নামের এই গ্রহাণুটি মূলত অমসৃণ ও ধূসর রঙের একটি পাথুরে পিণ্ড, যা মহাকাশের নিকষ কালো পটভূমিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
চীনের মহাকাশ সংস্থা জানায়, “নমুনা সংগ্রহের মূল কাজ শুরুর আগে মহাকাশযানটি গ্রহাণুর বাহ্যিক রূপ, পদার্থের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পর্যায়ক্রমে আরও বিশদ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালাবে।” নমুনা সংগ্রহের কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর যানটি থেকে একটি মডিউল বিচ্ছিন্ন হয়ে সেগুলো নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
গভীর মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক এর আগে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ মিশনগুলো সফলভাবে বিভিন্ন গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ-স্পেস এক্সপ্লোরেশন বা চাঁদের সীমানা ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমকক্ষ হওয়ার পথে চীনের জন্য তিয়ানওয়েন-২ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
গ্রহাণু মূলত সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান আদিম পাথুরে বস্তু। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহাণুগুলো থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করলে সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তনের অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।