Skip to main content

Brick Lane News

মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ কমল ৩০ শতাংশ: ঢাকাতেও তীব্র গ্যাস সংকটের শঙ্কা

মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ কমল ৩০ শতাংশ: ঢাকাতেও তীব্র গ্যাস সংকটের শঙ্কা

ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালগুলো থেকে রূপান্তরিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব রাজধানী ঢাকার গ্রাহকদের ওপরও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই টার্মিনালগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

সরবরাহ কমল ৩০ কোটি ঘনফুট
বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, দেশে আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আগে মহেশখালীর দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১ থেকে ১.০৫ বিলিয়ন (১০০ থেকে ১০৫ কোটি) ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল।

কিন্তু সাগরের বৈরী পরিস্থিতির কারণে সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে সরবরাহ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ঘনফুট কমানো হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালগুলো থেকে মাত্র ৭৫০ মিলিয়ন (৭৫ কোটি) ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন ও সরবরাহ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাসাবাড়ি থেকে শিল্পকারখানায় ভোগান্তির শঙ্কা
বাংলাদেশের দৈনন্দিন মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজি সরবরাহ আংশিক ব্যাহত হলেও তা সামগ্রিক গ্যাস পরিস্থিতিকে নাজুক করে তোলে।

সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন যে, হঠাৎ করে সরবরাহ কমার কারণে ইতোমধ্যে সারা দেশে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বালাতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলো তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস থেকে বঞ্চিত হবে এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের দুঃখ প্রকাশ
গ্যাসের এই হঠাৎ সরবরাহ সংকটের কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালী টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসের নেটওয়ার্কভুক্ত সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপ (লো-প্রেশার) বা গ্যাস সংকটের সম্মুখীন হবেন। সাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।