Skip to main content

Brick Lane News

টেলিটক বিক্রি করবে না সরকার, জোর দেওয়া হবে আধুনিকায়নে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

টেলিটক বিক্রি করবে না সরকার, জোর দেওয়া হবে আধুনিকায়নে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ঢাকা: বেশ কয়েকটি বিদেশি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে দেশের টেলিকম বাজারে এর অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে অপারেটরটিকে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি কোম্পানি টেলিটক কিনে নেওয়ার বা অংশীদারিত্বের জন্য সরকারের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিযোগিতামূলক মোবাইল বাজারে রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি বজায় রাখতে সরকার এটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা করছে না।

টেলিটক-বাংলালিংক একীভূতকরণ ও ভিওন-এর প্রস্তাব সম্প্রতি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক-এর মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ (VEON) রাষ্ট্রীয় দুই প্রতিষ্ঠান টেলিটক এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারকে চিঠি দিয়েছে।

ভিওন-এর পক্ষ থেকে টেলিটককে বাংলালিংকের সঙ্গে একীভূত (মার্জ) করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে গত ২৯ জুন ভিওন-এর চেয়ারম্যান ওগি কে ফাবেলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই বিশাল বিনিয়োগের নেতৃত্ব দেবে ভিওন নিজেই। তারা সরাসরি ২৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রতি ডলার ১২৩.২৫ টাকা হিসেবে যা প্রায় ৩০.৮১ বিলিয়ন টাকা) বিনিয়োগ করবে এবং বাকি অর্থায়নে অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ভূমিকা রাখবে। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত সংযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন।

নগদ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও সরকারের অবস্থান নগদ-এ বিনিয়োগে ভিওন-এর আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই মোবাইল আর্থিক সেবা সংক্রান্ত চলমান আইনি জটিলতাগুলো সমাধান হওয়ার পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ‘নগদ’ থেকে শত শত কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ উঠেছিল, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম জানান, বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখবে।

টাকা উদ্ধারের জটিলতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মানুষের পকেট থেকে একবার টাকা চলে গেলে, তা উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।”