Skip to main content

Brick Lane News

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অণ্ডকোষ চেপে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা, ভিডিও ভাইরাল

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অণ্ডকোষ চেপে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা, ভিডিও ভাইরাল

বরিশালে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

জানা গেছে, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার শনিবার (৫ জুলাই) রাতে সিসিটিভি ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চারজন যুবক আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের একজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছু সময় আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের পাশের কাঠপট্টি সড়কে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজের দাবি, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই, মর্মে অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু ও তার সহযোগীরা অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন।

আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোয় ওই চেক থেকে অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই প্রকাশ করেছেন বলে স্বীকার করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি জানান।