ব্রিকলেন নিউজ, স্যাটায়ার বিভাগ:
-
ডিপ্লোম্যাটিক ক্ষোভ বনাম ডিজিটালি খোঁচা: সরকারি বিবৃতিতে হাসির জোয়ার!
-
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন ক্ষুব্ধ, জনগণ তখন হাসিতে গড়াচ্ছে!
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্ষোভ প্রকাশের শত বছরের ইতিহাস আছে। সাধারণত এসব ক্ষোভ প্রকাশ পায় কড়া ভাষায় লেখা কোনো ‘নোট ভার্বাল’ কিংবা জরুরি তলবের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে নিজেদের চরম ‘ক্ষোভ’ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করে ফেসবুকে বিবৃতি জারি করল, তখন দেশের জনগণ কূটনীতির সেই সুগম্ভীর গাম্ভীর্যকে এক নিমেষে পরিণত করল ট্রল ও বিনোদনের মহাসমুদ্রে।
কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাবখানা এমন ছিল যেন তারা এক বিরাট হুমকি বা কড়া বার্তা জারি করেছে। অথচ ডিজিটাল দুনিয়ার বাস্তব চিত্র বলছে একদম ভিন্ন কথা। মন্ত্রণালয়ের সেই ভারিক্কি ক্ষোভের পোস্টে মোট রিঅ্যাকশন ছাড়িয়ে যায় ৫৩ হাজার। কিন্তু আসল চমক ছিল রিঅ্যাকশন বাক্সে!
সেখানে কোনো সমীহ বা গম্ভীর আলোচনার বালাই ছিল না। মোট রিঅ্যাকশনের মধ্যে ৪৩ হাজারই এসেছে ‘হাহা’ বা হাসির ইমোজি। অর্থাৎ, সরকারের যে ক্ষোভের আগুনে দিল্লির পিনপতন নীরবতা বজায় রাখার কথা ছিল, দেশের মানুষ সেই আগুনে আলু পুড়িয়ে খাওয়ার মতো উল্লাসে মেতেছে। কূটনৈতিক বার্তা রূপ নিয়েছে নিখাদ কমেডিতে।
শুধু রিঅ্যাকশন বাটনেই শেষ নয়, কমেন্ট সেকশনে নেমেছিল সমালোচনার ঝড় ও মন্তব্যের মিছিল। প্রায় ১৭ হাজারের বেশি মন্তব্যের মধ্যে ৯০ ভাগই এসেছে উল্টো সুরে! সেখানে সাধারণ মানুষ কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ‘কাগজে-কলমে’ ক্ষোভকে এক হাত নেয়নি, বরং শেখ হাসিনার বক্তব্য ও অবস্থানকে খোলাখুলি সমর্থন ও স্বাগত জানিয়েছে।
কূটনীতির আধুনিক সংজ্ঞা যদি হয় ‘জনগণের মন বোঝা’, তবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে জনগণের মনের চেয়ে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি উল্টো মেরুতে অবস্থান করছে, তা এই ফেসবুক পোস্টের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত হলো জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা। অথচ জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ‘হাহা’ আর কমেন্টের তোড় দেখে স্পষ্ট যে, কোটি টাকার কূটনীতি এখন চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি, আর রাজপথ থেকে ফেসবুক—সর্বত্রই আসল চিত্র ফুটে উঠছে। সরকারি ক্ষোভকে যখন দেশের আপামর জনসাধারণ এইভাবে হাসির পাত্র বানায়, তখন বুঝতে হবে ডিপ্লোমেটিক পেজ চালানো আর দেশের মানুষের পালস বোঝা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা শিল্প!
এখন দেখার বিষয়, ৪৩ হাজার ‘হাহা’ দেখার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের ক্ষোভকে আরেকটু বাড়িয়ে নতুন কোনো বিবৃতি দেয়, নাকি এবার ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়া আইডিগুলোর ওপর কোনো কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার চিন্তা করে!
ব্রিকলেন/আ/তৌ/আগস্ট/২৬/