পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালনের তারিখ পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় সংশোধন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। রবিবার বিকেলে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি কার্যকর হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এর আগে চলতি বছরের ২০ মে যে বার্ষিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে এই ধর্মীয় দিবসের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখটি বরাদ্দ ছিল। তবে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম এবার ২৩ সেপ্টেম্বর হওয়ায় ছুটির দিনটিও একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। সাধারণত দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, যা তারা পৃথক নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করে থাকে।
ইসলামিক ঐতিহ্যে ‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। প্রতি হিজরি বছরের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে এ দিবসটি পালিত হয়, যা ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বা ‘ফাতেহা শরিফ’ হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে দিবসটি ‘গেয়ারভি শরিফ’ নামেও পরিচিত। সুফি সাধক বড়পির হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হয়। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস সানিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ভূমিকা অপরিসীম বলে গণ্য করা হয়।
চলতি বছরের ছুটির এই আংশিক পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের ছুটির পরিকল্পনায় সমন্বয় আনতে হবে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন এই সিদ্ধান্তটি দেশের সব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে ১১তম দিনের ফাতেহা বা ফাতেহা শরিফকে বোঝানো হয়।