Brick Lane News

নেতার ডান হাত ….

নেতার ডান হাত ….

আনিসুর বুলবুল –

মসজিদে আসরের নামাজ শেষে শুনলাম, ইমামের পেছনে বসা লোকটি নেতার ডান হাত। তিনি নিজেই সেটি বললেন। নামাজের আগে ও পরে সবাই তাকে সালাম দিচ্ছিলেন। নামাজ শেষ করে টং দোকানে বসে চায়ে চুমুক দিতেই আরেকজন বললেন, তিনিও নাকি নেতার ডান হাত।

টং দোকানের অদূরেই তাকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন। চা খাওয়া শেষ করে বাইক স্টার্ট দিয়ে কিছু দূর যেতেই চোখে পড়ল যানজট। সরু রাস্তার মাঝখানে রিকশা আটকে দাঁড়িয়ে আছেন আরেকজন। তার নতুন বাইকে রিকশার ধাক্কা লেগেছিল। জ্যামে আটকে থাকা সবাই বলাবলি করছিল, তিনিও নাকি নেতার ডান হাত।

আমার খটকা লাগে। সেদিনই না বাসার কেয়ারটেকার বলছিলেন, নেতার ডান হাত আসলে বাড়ির মালিকের ছোট ভাই। আবার মেয়ের প্রাইভেট টিউটরও সেদিন জানালেন, তার ভাগ্নেও নাকি নেতার ডান হাত। যতদূর মনে পড়ে, আমার একজন সহকর্মীও বলেছিলেন- তিনিও নাকি নেতার ডান হাত। একদিন ফোনে আমার বন্ধুও বলেছিল, তার দুলাভাইও নাকি নেতার ডান হাত। তাহলে এরা আসলে কারা? নেতার ডান হাত আসলে কয়জন?

একজন মানুষের তো সাধারণত একটি ডান হাতই থাকার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে একজন নেতার ডান হাত কমপক্ষে পঁচিশজন। বিশেষ দিনে তা পঞ্চাশেও পৌঁছে যায়। নির্বাচনের সময় সেই সংখ্যা একশো ছাড়ায়। আর ক্ষমতায় গেলে হিসাবরক্ষকও গুনে শেষ করতে পারেন না।

এই ডান হাতদের আবার কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে। তারা সবসময় ব্যস্ত ভঙ্গিতে হাঁটেন। ফোন কানে ধরে বলেন, ‘হ্যালো, আমি বলতেছি, নেতার সঙ্গে বসে আছি।’ যদিও ফোনের ওপাশে কেউ থাকেন না। তারা চায়ের বিল দেন না। কারণ দোকানদার জানে, ডান হাতের কাছ থেকে টাকা চাওয়া মানে উন্নয়নের বিরোধিতা করা।

তাই এখন আমি সাবধানে চলি। কারও সঙ্গে তর্ক করি না। রিকশাওয়ালার সঙ্গেও না, চায়ের দোকানদারের সঙ্গেও না, এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার সঙ্গেও না। কারণ কে যে কখন বলে বসে, ‘চিনেন না? আমি নেতার ডান হাত।’

 

লেখক- সাংবাদিক