Brick Lane News

ভূ রাজনীতিতে ভারতকে  ঘিরে ফেলার  নতুন ছক

ভূ রাজনীতিতে ভারতকে ঘিরে ফেলার নতুন ছক

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতকে ঘিরে ফেলার ছক ও তুরস্ক-পাকিস্তান লবিতে তারেক রহমানের ঘুরে দাঁড়ানো: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক আকাশে অস্থিরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার অভিজাত হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে সম্প্রতি একটি অতি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশের ডিজিএফআই ও এনএসআই’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ছিল ভারতের সিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন্স নেক’, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত বোন রাজ্য নিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান।

এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি বড় আন্তর্জাতিক অক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার লক্ষ্য ভারতের নিরাপত্তা বলয় ভাঙা এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদার করা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে পাকিস্তান ও তুরস্ক লবির দিকে ঝুঁকছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তুরস্কের রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় এই লবি তারেক রহমানের জন্য শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করছে। এই তুরস্ক-পাকিস্তান অক্ষ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘কৌশলগত যুদ্ধবিরতি’র অন্যতম অনুঘটক হয়ে উঠেছে।

মিয়ানমারের বিরল মূল্যবান খনিজ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন বড় ধরনের নীতি পরিবর্তন করেছে। এখন তারা তুরস্ক-চীন-পাকিস্তান রুট ব্যবহার করে আঞ্চলিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। কোয়াডে অতি সক্রিয় হয়ে চীন থেকে দূরে সরে যাওয়া ভারতের জন্য কৌশলগত ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। স্বার্থের খাতিরে যুক্তরাষ্ট্র চীন-পাকিস্তান-তুরস্ক অক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে ভারতের পিঠে ‘কূটনৈতিক ছুরি’ চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা ঠেকাতে মরিয়া। তারা চীনের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমে দ্বিমেরু (ইউএস-চীন) বিশ্বব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায় এবং যৌথভাবে ভারতকে কোণঠাসা করতে চায়। টিস্টা প্রকল্প ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ চীনকে সুবিধা দিয়ে এই কৌশলগত জোট গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশকে এই বড় ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে।

বিশ্ব শক্তি বাজারেও নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। ওপেকের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় তেল উৎপাদক দেশগুলো নিজস্ব দামে তেল বিক্রি করতে পারবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হ্রাস করবে। তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প স্থানান্তরে আরও ৬-৭ বছর লাগবে বলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সাময়িক সমঝোতায় গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সেনা ফেরত পাঠানোর পর সৌদি আরবসহ গাল্ফের ছয়টি দেশে সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লবির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চলছে। সৌদি আরব সম্প্রতি ১০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য নিয়োগ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশী সেনাদের সুযোগ করে দিয়ে সৌদি ও অন্যান্য গাল্ফ দেশে অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া এখন এক বিশাল দাবার ছক। পুরনো শত্রুতা ভুলে গিয়ে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে ভারতকে কোণঠাসা করছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা তৎপরতা ভারতের জন্য গুরুতর হুমকি। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যদি দ্রুত কোয়াড থেকে সরে এসে আরআইসি (রাশিয়া-ভারত-চীন) জোটকে প্রাধান্য না দেয়, তাহলে অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ঢাকার সেই গোপন বৈঠক শুধু আলোচনা নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার শক্তিশালী নীলনকশা।

পল কাপুরের মন্তব্য: যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতের চেয়েও অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারত নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে সামরিক মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

(সূত্র: বিভিন্ন গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক মহল)