Skip to main content

Brick Lane News

রূপপুর প্রজেক্টের ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করলো ফ্যাক্ট চেক জোন

রূপপুর প্রজেক্টের ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করলো ফ্যাক্ট চেক জোন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক ও কারিগরি মহলে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে যে, ভারতের কুদানকুলামের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র সে দেশে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছে।

তবে ফ্যাক্ট চেক জোন  ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের একই প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত ব্যয়ের সাথে এই দাবির বড় ধরনের অমিল রয়েছে এবং রূপপুরের ব্যয় ভারতের তুলনায় অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতের তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম দুটি ইউনিটের (ইউনিট ১ ও ২) প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ১৭০ কোটি রুপি, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে ১৭ হাজার ২৭০ কোটি রুপিতে দাঁড়ায় (তৎকালীন হিসেবে যা প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলার)।

তবে এই ব্যয়টি ছিল ২০০২ সালের হিসাব অনুযায়ী। বর্তমানে কুদানকুলামে রাশিয়ার রোসাটম যে নতুন দুটি ইউনিট (ইউনিট ৩ ও ৪) তৈরি করছে, সেগুলোর সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রূপপুর প্রকল্পের ২,৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিটের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের যে প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ২০ বছরের পুরোনো এবং বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদর বা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া রূপপুরে ব্যবহৃত হচ্ছে রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত ‘ভিভিইআর-১২০০’ মডেলের থ্রি-প্লাস জেনারেশন রিঅ্যাক্টর, যা কুদানকুলামের পুরোনো ইউনিটের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি উন্নত হলেও রূপপুরের পার-কিলোওয়াট নির্মাণ ব্যয় (প্রায় ৫,৫০০ ডলার) বেলারুশ বা ভারতের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা দুর্নীতির আশঙ্কাকাকে জোরালো করে।

ফ্যাক্টচেকজোনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পারমাণবিক অবকাঠামো বিদ্যমান থাকায় তাদের খরচ অনেক কম হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশে জিরো গ্রাউন্ড থেকে অবকাঠামো তৈরি, পরিবহন খরচ এবং মাটি উন্নয়নের বিশাল ব্যয়ের কারণে খরচ বেড়েছে।

তবে সব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেও ‘১৪ হাজার কোটি টাকায়’ এ ধরনের মেগা প্রজেক্ট নির্মাণের দাবিটি বর্তমান কারিগরি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সঠিক নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে।