Brick Lane News

প্রকৃতি ও মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে বার্মিংহামে পূর্বনাটের চারামেলার উদ্যোগ

প্রকৃতি ও মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে বার্মিংহামে পূর্বনাটের চারামেলার উদ্যোগ

“মা চাচিদের নাইওরির আদলে সবজির চারা যাচ্ছে নাইওরিতে”

 

বার্মিংহাম থেকে ইফতেখারুল হক পপলু-

মা চাচীদের নাইওরির আদলে সবজির চারা নাইওর যাচ্ছে বার্মিংহামের ঘরে ঘরে। চারামেলা এখন শুধু আর গাছের চারা বিনিময়ের অনুষ্ঠান না বরং এটি এখন একটি সামাজিক উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। আর এই সৃজনশীল সবজি চাষ ও প্রকৃতির সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিলেতের মূলধারার সাংস্কৃতিক সংগঠন পূর্বনাট।

গতকাল রোববার বার্মিংহামের প্রবাসী বাঙালি অধ্যুষিত স্মল হিথ এ পূর্বনাট স্টুডিওর সামনের মাঠে এ চারামেলা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী চারা বিতরণের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নানা ধরনের খেলা ও ফেইস পেন্টিং অনুষ্ঠিত হয়।
এই আয়োজনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেফালী কবির ও সৈয়দা র‌ওশন‌আরা ইমন। পূর্বনাট পরিবারের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য এই ইভেন্টের সাথে যুক্ত আছেন। তাদের প্রত্যেকের ঘরে টানা দুই মাসের পরিশ্রম ও যত্নের মাধ্যমে নানা প্রজাতির অর্ধ সহস্রাধিক চারা বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
চারামেলার মূল লক্ষ্য হল এ দেশে বেড়ে উঠা তরুণ প্রজন্মের মাঝে সবজি চাষ, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
এই ইভেন্টে শুধু চারা বিনিময়ই নয়,বরং চারা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে রূপান্তরের পুরো প্রক্রিয়া আর ফসল উৎপাদন পর্যন্ত পূর্বনাট পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করবে।
চারা মেলায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন গাছের চারা একে অপরের সাথে বিনিময় করেন এবং পাশাপাশি অভিজ্ঞ বাগান চাষীদের কাছ থেকে গাছের পরিচর্যা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
পূর্বনাটের পরিচালক মুরাদ খান বলেন,গাছের চারা নাইওর যাচ্ছে এটি আসলে একটি মজার ব্যাপার। নাইওর হচ্ছে বেড়াতে যাওয়া মানে সিলেট অঞ্চলে মা চাচীদের বেড়াতে যাওয়াকে নাইওর বলে। তো চারার ব্যাপারটা কি চারা যখন বড় হয় এটি হচ্ছে নিজের বাচ্চার মত, নিজেদের কন্যার মত। তখন এটিকে আমরা যখন দিয়ে দিতে চাই মনে হয় একেবারে দিয়ে দিতে চাইনা। একটা সম্পর্ক রাখতে চাই। তার বড় হওয়া, তার যত্ন নেওয়া, তার সাথে আমরা একটা সম্পর্ক রাখতে চাই। এবং যিনি নিচ্ছেন তার সাথে আমরা একটা আত্মীয়তার বন্ধনে জড়াতে চাই। এবং বলতে চাই নাইওরির মাধ্যমে একটা সম্পর্ক তৈরি হল। মানে নাইওর যাচ্ছে আবার ফিরে আসবে। হয়তো ফুল হিসেবে আসবে নয়তো ফল অথবা সম্পর্ক নিয়ে আসবে। কিন্তু আসবে আর কি। ফেরত আসবে।
চারামেলা আমাদের, আমরা এটিকে নাইওর বলছি। পূবনাট এর সদস্যরা নিজেদের ঘরে চারা রোপণ ও লালন পালন করছিলেন। একটা পর্যায়ের পরে এখন আমরা এটিকে সবার সাথে শেয়ার করছি। আমরা এটিকে নাইওর বলছি। মানুষজন এটিকে নিয়ে যাবে। নিয়ে যাওয়া মানে একেবারে দিয়ে দেওয়া বলছি না। তারপর আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকবে। আমরা যাতে এ বিষয়ে সাপোর্টও দিতে পারি তার জন্যই চারামেলা করা‌। বিপুল লোকজনের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি আরো বড় করে করা উচিত। মানুষের চাহিদা অনেক। মানুষজন এটিকে খুব এপ্রিসিয়েট করেছে। আমরা এটিকে আগামীতে আরও বড় করে করতে চাই। সবাই এটিকে খুব ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে এবং খুব এনজয় করছে। পূর্বনাটের এ চারামেলা মূলত বছরব্যাপী তিনটি পর্বের একটি। প্রথম পর্ব নাইওর এরপর যখন ফুল ফসল আশা আরম্ভ হবে তখন আমরা করব আগমনী আর শেষে ফসল তোলা হলে হবে হারবেস্ট এন্ড হারমনি। এ বছরের মত আগামী বছর আমরা এটি করব। আমাদের এই কাজে লটারি ফাউন্ডেশন আমাদের সাপোর্ট করছে। মূলত এটি করার সময় মানসিকভাবে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়। সুস্থতা স্থিরতা পাওয়া যায়। এটাকে আমরা বার্মিংহামের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই এই ইভেন্ট এর মাধ্যমে।
গাছের যত্ন ও পরিচর্যা,
সঠিক টব নির্বাচন,
উপযুক্ত মাটি প্রস্তুতকর‌ণ
সব মিলিয়ে, “নাইওর চারামেলা” হয়ে উঠতে যাচ্ছে এক প্রাণবন্ত ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ একত্রিত হয়ে সবুজ ভবিষ্যতের বীজ বপন করবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন পূর্বনাটের আরেক পরিচালক রাজীব জেবতিক। তিনি বলেন এই উদ্যোগ শহুরে জীবনে সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরবে এবং প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মানুষজনের মাঝে সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।