প্রভাবশালী মহলের চাপে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ ব্যবসায়ী এ কে আজাদ।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে এ কথা জানান তিনি।
এ কে আজাদ বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৭৫ হাজার লোক কাজ করে। তাদের স্বার্থটা আগে দেখতে হয় আমাকে। আমার কাছে স্বাধীন সাংবাদিকতা সেকেন্ডারি, ফান্ডামেন্টাল হলো এসব লোকের নিরাপত্তা দেওয়া।
তিনি স্বীকার করে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তার মূল অন্তরায় হচ্ছি আমি। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে, তারা প্রভাবশালী মহল, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করে। কর্মীদের নিরাপত্তা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনেক সময় বাধ্য হয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে হয়।
এ প্রশ্নের জবাবে এ কে আজাদ বলেন, আপনারা যদি প্রটেকশন দিতে পারেন যে আমার ব্যবসায় কোনো ক্ষতি হবে না বা আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে না—এই নিশ্চয়তা পেলে আমি তো আর সাংবাদিকদের হাত চেপে ধরব না।
সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এই সমস্যা সমাধানে সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে মালিকের ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ‘ট্রাস্ট’ বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে এ কে আজাদ বলেন, আমি সমকাল বা চ্যানেল ২৪-এর মধ্যে যে কোনো একটিকে ট্রাস্টের হাতে ছেড়ে দিতে চাই, যদি আপনারা দায়িত্ব নেন।
সেশনে আলোচনায় আরও যুক্ত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইন বিশেষজ্ঞ জন বারাটা, প্রথম আলোর ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির। সেশনটি পরিচালনা করেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শাকিল আনোয়ার।