Skip to main content

Brick Lane News

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার মূল কারণ আইফোন ছিনতাই নয়, বরং ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন অপ্রতিমের বাবার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েসটেক’-এ কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এক মাস আগে নেশাদ্রব্য কেনার জন্য তুহিন অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, অপ্রতিম বেঁচে থাকলে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে—এই চিন্তা থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হতে পারে।

ঘটনাস্থল ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন শুরুতে অপরাধের কথা অস্বীকার করলেও পরে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে তুহিন অপ্রতিমকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে অপ্রতিম তাকে ধাক্কা দেন। এরপর তুহিন ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথার পেছনে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করেন। অপ্রতিম অচৈতন্য হয়ে পড়লে তুহিন তার কাছে থাকা আইফোনটি নিয়ে সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান।

‘কিং অব কোটবাড়ি’ নামে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে তুহিনের পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এই গ্রুপটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের প্রায় এক বছরের সুসম্পর্ক ছিল এবং তারা নিয়মিত মোটরসাইকেল নিয়ে লালমাই পাহাড় এলাকায় ঘুরতে যেত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে অপ্রতিমকে ওই গ্রুপের সঙ্গে আড্ডায় এবং মোটরসাইকেল মহড়ায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে যখন তুহিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়, তখনো তারা অপ্রতিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের ফোনে বারবার কল আসতে থাকলে পুলিশি সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ফোনের অপর প্রান্তে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কাজ করা আরেক কিশোর ছিল, যাকে পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিন তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও তদন্তের স্বার্থে ধীরে ধীরে অন্য জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অপ্রতিমের পরিবার। ড. নাহিদা বেগম অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা জানান, নাহিদা বেগম চান পুলিশ এই দিকটিও খতিয়ে দেখুক যে, পূর্বের সেই অভিযানের জেরে প্রতিশোধ নিতে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না। বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা ||। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিয়মিত অপ্রতিমের বাসায় পার্টি হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডটকমের এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ‘কিং অব কোটবাড়ি’ গ্রুপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ড।