দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের উত্থাপিত একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন, যার বিপরীতে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টনের জোগান রয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আমন ধানের শিষ ও কুশি বের হওয়ার সময় হওয়ায় সারের চাহিদা তুলনামূলক কম এবং কৃষকরা মূলত রবি মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রায় ৮ হাজার শূন্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যার আবেদন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আবেদনের সময় শেষ হওয়ার আগেই দুর্নীতির অভিযোগ তোলা অবান্তর। তিনি জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা দুজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ দিতে পারবেন, ফলে আরও ১৬ হাজার ডিলার যুক্ত হবেন। বর্তমানে দেশে ৩১ হাজারের বেশি ডিলার কর্মরত রয়েছেন।
সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে পাঁচজন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষকের সম্মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সারের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের কথা বলার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে দেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ না পায়। তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের গৃহপালিত বলতে চাই না, বরং দেশের ও জনগণের স্বার্থে সংসদে আপনাদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করি।