Skip to main content

Brick Lane News

ব্রিটেনের উপনির্বাচনে জ্যাক পোলানস্কিকে হারিয়ে এমপি হলেন সোমালীয় শরণার্থী আবদি

ব্রিটেনের উপনির্বাচনে জ্যাক পোলানস্কিকে হারিয়ে এমপি হলেন সোমালীয় শরণার্থী আবদি

ব্রিটেনের লন্ডনে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী সাগাল আবদি-ওয়ালি। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিকে পরাজিত করে তিনি আসনটি ধরে রেখেছেন। সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের কারণে শৈশবে শরণার্থী হিসেবে ব্রিটেনে আসা ৪২ বছর বয়সী সাগাল এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই আসন ছেড়ে দেওয়ার পর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

৯ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাগাল আবদি-ওয়ালি পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯২ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি পেয়েছেন ৮ হাজার ৯২৮ ভোট বা ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩ হাজার ৩৬৪। কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ইওয়ান ক্যামেরন ১ হাজার ৯২২ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। রিফর্ম ইউকের প্রার্থী পিটার নিউম্যান পেয়েছেন ১ হাজার ৬১২ ভোট।

উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে ৫৬ হাজার ৭৮৬ জন ভোট দিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কিয়ার স্টারমার এই আসনে ১৮ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়েছিলেন, আর গ্রিন পার্টির ভোট ছিল ৪ হাজার ৩০।

সাগাল আবদি-ওয়ালি ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে ব্রিটেনে আসেন। লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২২ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে মাসে ক্যামডেন কাউন্সিলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এবার জাতীয় সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন তিনি।

বিজয়ের পর বক্তব্যে সাগাল বলেন, এই এলাকার মানুষ তাকে একটি সম্প্রদায়, একটি ঘর, সুযোগ ও বন্ধুত্ব দিয়েছে। তাদের আস্থা অর্জন করায় তিনি কৃতজ্ঞ। মানুষের জীবন উন্নত করতে প্রতিদিন কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষ্য, ভোটাররা তাকে সমর্থন করুন বা না করুন, সবার জন্য কাজ করবেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিয়ার স্টারমারের সাবেক আসনে নিজে প্রার্থী হয়ে সংসদে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেবার পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এর আগে দলের সম্মেলনে জায়নবাদকে বর্ণবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা একটি প্রস্তাব পাস হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই প্রস্তাবের ভোটে অংশ না নেওয়ায় পোলানস্কি দলের ভেতরেও সমালোচনার মুখে পড়েন।

গ্রিন পার্টির সাবেক নেতা ক্যারোলিন লুকাস পোলানস্কির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে দলের ইহুদি সদস্যদের সংগঠন জিউইশ গ্রিনসের চেয়ারভিভিয়ান লিচেনস্টাইন তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রস্তাবের বিষয়ে পোলানস্কি প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব দেখাতে পারেননি।

পরাজয়ের পরও পদত্যাগ করতে রাজি নন পোলানস্কি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না। তার দাবি, নেতৃত্ব গ্রহণের সময় দলের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, এই উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং দলটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে।

ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পোলানস্কিকে গ্রিন পার্টির নেতা হিসেবে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বাজির বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাড্রিয়ান র‍্যামসের নাম এগিয়ে রয়েছে। তবে এসব কেবল বাজির বাজারের হিসাব; পোলানস্কির নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতারা এই জয়কে দলের জন্য ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছেন। দলের উপনেতা লুসি পাওয়েল বলেন, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের ভোটাররা ভয় নয়, আশাকে বেছে নিয়েছেন। তবে এই জয়কে কেন্দ্র করে এখনই সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ার ব্রিজেট ফিলিপসন। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালে পাওয়া পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী সরকারকে এখনো অনেক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

উপনির্বাচনের ফল লেবার পার্টিকে আসনটি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে গ্রিন পার্টির ভোট বৃদ্ধি পেলেও দলের নেতা জ্যাক পোলানস্কির জন্য এই পরাজয় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।