Skip to main content

Brick Lane News

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭১৯

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭১৯

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্কারী জোড়া ভূমিকম্পের পর এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান। তবে দুর্যোগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশের বহু প্রত্যন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত সরকারি বা আন্তর্জাতিক সাহায্য। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে আধুনিক যন্ত্রপাতির বদলে হাতুড়ি-শাবল হাতে স্থানীয় বাসিন্দারাই মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার এই লড়াই এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে বলে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় (গোল্ডেন আওয়ার) পার হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে জীবিত পাওয়ার আশা ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে এর মধ্যেও সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় মাটির নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত (Aftershock) অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪.৬ মাত্রার একটি পরাঘাত ছিল। এই পরাঘাতগুলোর কারণে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিক ধসে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা ধারণার চেয়ে অনেক বাড়তে পারে আশঙ্কায় জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের বিশেষ ব্যাগ (Body Bag) সংগ্রহ শুরু করেছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্য ও কারাকাসের পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি উদ্ধারকাজে তাদের তেমন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুর্গতরা জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে স্থানীয় কৃষক ও প্রতিবেশীদের সরবরাহ করা খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়।

অবশ্য এসব অভিযোগের বিপরীতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেছেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য দুর্গত এলাকায় কাজ করছেন। এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই সরকারের বড় লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে একটি রঙভিত্তিক বিশেষ সংকেত পদ্ধতি (Color-coded signaling system) ব্যবহার করা হবে, যার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকেরা নিজেদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি পাবেন। বর্তমানে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জন্য বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির তৈরি করা হচ্ছে।