আনসার আহমেদ উল্লাহ-
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
লন্ডন, ২৬ জুন ২০২৬: যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) পূর্ব লন্ডনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম বাবলু। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য গনজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক কাউন্সিলর অজন্তা দেব রায় ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বাউল, উপদেষ্টা হরমুজ আলী, যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অভিনেতা স্বাধীন খসরু, অনলাইন এক্টিভিস্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এহসান, লন্ডন আওয়ামী লীগের নেতা এবং যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির ড. আনিসুর রহমান আনিস।
উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অমি রহমান পিয়াল, সাবেক সভাপতি নুরউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড.আনছার আহমেদ উল্লাহ, সদস্য শাহাবুদ্দিন বাচ্চু, সহসভাপতি জামাল আহমেদ খান, নৃত্যশিল্পী নয়নিকা ঘোষ, যুবনেতা মুশফিক জায়গীরদার।
আলোচনার বিষয় ছিল ‘ফিরে দেখা: ২০১৩ সালের গণজাগরণ (শাহবাগ আন্দোলন) ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম’। বক্তারা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সংগ্রামী জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ১৯৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘গণআদালত’ ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা পরবর্তীকালে ২০১৩ সালের শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আদর্শিক ভিত্তি ও প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগের গণআন্দোলন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সংগ্রামেরই ধারাবাহিকতা বহন করে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।