ব্রিকলেন নিউজ ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশে পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কলকাতায় দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে এবং গভীর রাতে গোয়ালিয়রে মন্দিরে যাওয়ার পথে পুণ্যার্থীদের ওপর ট্রাক উঠে যাওয়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় উৎসব ও প্রার্থনায় অংশ নিতে গিয়ে এমন অপ্রত্যাশিত প্রাণহানিতে দেশটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলকাতায় মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু: শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নারী এবং একজন শিশু রয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভেতরে আশ্রয় নিলে তীব্র ভিড়ের সৃষ্টি হয়। প্যান্ডেলের সরু প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আহত অন্তত ৩৫ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গোয়ালিয়রে ট্রাক চাপায় ১২ পুণ্যার্থী নিহত: একই দিনে, শনিবার গভীর রাতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরে যাওয়ার পথে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন পুণ্যার্থীরা। খাড়া ঢালু রাস্তায় ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, রাত দেড়টার দিকে একটি ধানবোঝাই ট্রাক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর অন্তত ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে দায়িত্বরত দুজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুটি ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। উৎসব এবং প্রার্থনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া মানুষদের এই মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই জোড়া দুর্ঘটনা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।