যুক্তরাজ্যে সরকারি ভাতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি বন্ধে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবের নির্দিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের নতুন ক্ষমতা কার্যকর করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ পরিস্থিতিতে ভাতা গ্রহীতাদের ব্যাংক তথ্যাদি দেশটির কর্ম ও পেনশন বিভাগকে (ডিডব্লিউপি) সরবরাহ করতে পারবে।
‘যোগ্যতা যাচাই ব্যবস্থা’ (ইভিএম) নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত প্রকৃত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অযোগ্যদের শনাক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ সার্বিক ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের আওতায় রয়েছেন, যার মধ্যে পরিবারের সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি। এই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ৮ হাজার কোটি পাউন্ড। নতুন এই তদারকি ব্যবস্থা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ছাড়াও পেনশন ক্রেডিট এবং নিউ স্টাইল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাউন্সের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ব্যাংক যেসব তথ্য সরবরাহ করতে পারবে ডিডব্লিউপি থেকে সুনির্দিষ্ট নোটিশ পেলে ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ও সর্ট কোড, জমাকৃত অর্থের পরিমাণ, বিদেশে লেনদেনের তারিখ এবং একই ব্যক্তির অন্য বা যৌথ অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রদান করতে পারবে। ব্যাংকগুলো প্রাথমিকভাবে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দেশকের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করবে। কোনো তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা ডিডব্লিউপি-কে জানানো হবে এবং পরবর্তীতে বিভাগটি আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করবে।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা তবে এই ব্যবস্থার আওতায় সরকার সরাসরি গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক বিবরণী (Bank Statement) পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকের ব্যক্তিগত খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ, সুনির্দিষ্ট কেনাকাটার স্থান কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতামতের মতো সংবেদনশীল তথ্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে আদান-প্রদান করতে পারবে না।
ভাতা গ্রহীতাদের প্রতি নির্দেশনা ভুল বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান এড়াতে সুবিধাভোগীদের নিজস্ব আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডিডব্লিউপি। কোনো কারণে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করা হলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হতে পারে। তবে বিভাগের কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে গ্রহীতা দ্বিমত পোষণ করলে বাধ্যতামূলক পুনর্বিবেচনার (Mandatory Reconsideration) আবেদন করার সুযোগ বহাল থাকবে।
গত দুই দশকে যুক্তরাজ্যে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের ভাতা খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন পাউন্ড, যা পরিবহন, আবাসন ও প্রযুক্তির মতো অবকাঠামো খাতের চেয়ে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি কোনো ঢালাও নজরদারি নয়; বরং ভুল খাতে যাওয়া অর্থ সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতেই এই নজরদারি কাঠামো চালু করা হয়েছে।