ব্রিকলেন নিউজ ডেস্ক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য:
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের ক্লিন এয়ার জোন বা পরিচ্ছন্ন বায়ু অঞ্চলে (Clean Air Zone – CAZ) গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। নিয়ম ও সড়কচিহ্ন বা সাইনবোর্ডের অস্পষ্টতার কারণে লাখ লাখ চালক বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
মোটরিং সংস্থা ‘মোটরইজি’ (MotorEasy)-এর তথ্য অধিকার আইনের (Freedom of Information) আওতায় সংগৃহীত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
৯৬ লাখের বেশি পিসিএন জারি
দ্য সান-এর প্রতিবেদনে প্রকাশ, ব্র্যাডফোর্ড, পোর্টসমাউথ ও লন্ডন—এই তিনটি প্রধান এলাকায় ক্লিন এয়ার জোন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৬ লাখের বেশি পেনাল্টি চার্জ নোটিশ (PCN) জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু একই অপরাধ বারবার করেছেন এমন চালকদের তিন লাখের বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
মূলত গাড়ির ধোঁয়া থেকে নির্গত ক্ষতিকর দূষণ কমাতে এবং বায়ুর মান উন্নত করতে এই অঞ্চলগুলো চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত নির্গমন মান (Emission Standards) পূরণ না করা গাড়ি নিয়ে এসব এলাকায় প্রবেশ করলে এবং প্রযোজ্য চার্জ পরিশোধ না করলে এই জরিমানা গুনতে হয়। চালকদের অনেককেই পার্কিংয়ের পৌঁছানোর আগেই ১২০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে।
বিভ্রান্তির মূল কারণসমূহ
আঞ্চলিক নিয়মের ভিন্নতা: যুক্তরাজ্যের একেক শহরের অবকাঠামো ও পরিবেশগত চাহিদা আলাদা হওয়ায় ক্লিন এয়ার জোনের নিয়মেও রয়েছে ভিন্নতা। ফলে চালকরা সহজেই নিয়মের ফাঁদে পড়ছেন।
অস্পষ্ট সড়কচিহ্ন: এসব অঞ্চলের সড়কচিহ্ন বা সাইনবোর্ড নিয়ে রয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাধারণত গাঢ় নীল পটভূমিতে সবুজ বৃত্তের মধ্যে মেঘের প্রতীক ব্যবহার করা হয়, যা অনেক চালকের কাছেই স্পষ্ট নয়।
গাড়ির ক্যাটাগরি নিয়ে বিভ্রান্তি: নতুন গাড়ি কিনলেও সেটি সংশ্লিষ্ট শহরের নির্গমন মান পূরণ করে কি না, সে বিষয়ে চালকদের পরিষ্কার ধারণা থাকে না। এমনকি নতুন গাড়ি হলেও তা আগের গাড়ির মতো একই শ্রেণিতে পড়বে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মোটরইজির সতর্কতা ও পরামর্শ
মোটরইজির প্রতিষ্ঠাতা ডানকান ম্যাকক্লুর ফিশার (Duncan McClure Fisher) সতর্ক করে বলেছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলগুলোর পরিধি বাড়ায় অপরিচিত শহরে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের অসচেতনতাবশত জরিমানার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি চালকদের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:
১. যাত্রা শুরুর আগে প্রস্তুতি: অপরিচিত শহরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগেই সেখানের ক্লিন এয়ার জোনের নিয়মকানুন ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া।
২. গাড়ির মান নিশ্চিত করা: নতুন বা পুরোনো গাড়ি কেনার সময় সেটি সংশ্লিষ্ট শহরের নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।
৩. সময়মতো পরিশোধ: জরিমানার নোটিশ পেলে সাধারণত প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করলে কম হারে জরিমানা দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে নোটিশ উপেক্ষা করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে।
লন্ডনের সুপরিচিত ‘আলট্রা লো এমিশন জোন’ (ULEZ) থেকে শুরু করে অন্যান্য শহরের এই কড়াকড়ি পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখলেও, নিয়মের জটিলতা এবং সাইনবোর্ডের অস্পষ্টতা সাধারণ চালকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোর্স:
* দ্য সান (The Sun)
* মোটরইজি (MotorEasy) ইনফোএজ ডেটা (তথ্য অধিকার আইনের ভিত্তিতে সংগৃহীত পরিসংখ্যান)