বরগুনার বেতাগী উপজেলায় পুলিশকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ জানানোর জের ধরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এতে ওই ছাত্রীর পাঁচটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত যুবক ফয়সাল মৃধা উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল মৃধা শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ফয়সাল সম্পর্কে ওই ছাত্রীর দূরসম্পর্কের মামা। গত শনিবার রাতে শিশুটি বাড়ির বাইরে টয়লেটে গেলে ফয়সাল দরজার ফাঁক দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীর মা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ইদ্রিসের উপস্থিতিতে তখন বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু এর দুই দিন পরই সোমবার স্কুল থেকে ফেরার পথে ফয়সাল ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শিক্ষকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
অভিযুক্তের মা শিরিন বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, শনিবারের সালিশের সময় পুলিশের সামনেই অভিযুক্ত ফয়সালের মা অভিযোগ করার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারকে ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। মামলার বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ হাওলাদার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ফয়সালের মা মোসা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত শিশুটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর করে পাঁচটি দাঁত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীর মা জানান, শনিবারের ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ আসার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়।