বার্লিন, জার্মানি: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয়েছে জার্মান আওয়ামী লীগ। সংগঠনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে জাতিসংঘের ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার’ (UN Special Rapporteur on the Rights to Freedom of Peaceful Assembly and of Association)-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ও অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
জার্মান আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রক্রিয়ায় সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘অক্সফোর্ড ম্যাট্রিক্স’-এর মাধ্যমে ড. রায়হান রশিদ এবং ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল এই আবেদনটি উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে দলটির লাখ লাখ সদস্য ও সমর্থকের সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা, সমাবেশ করার অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

জাতিসংঘে পেশ করা অভিযোগে মূল যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে:
-
নিষেধাজ্ঞা জারির আগে আওয়ামী লীগকে আত্মপক্ষ সমর্থন বা জবাব দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
-
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
-
দলীয় সভা, নেতৃত্ব নির্বাচন, জনসমাবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।
-
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।
-
প্রবাসী শাখাগুলোর (যেমন জার্মান আওয়ামী লীগ) নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক মতপ্রকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর হক খান বলেন, “সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত একটি মৌলিক মানবাধিকার। আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত লাখ লাখ মানুষ এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আমরা জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছি।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী ভূঁইয়া বলেন, “এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি গণতন্ত্রের সার্বজনীন নীতিমালা, বহুত্ববাদ এবং সংগঠনের স্বাধীনতার প্রশ্ন। আমরা আশা করি জাতিসংঘ পরিস্থিতিটি খতিয়ে দেখে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবে।”