শাহ লাভলী রহমান
শহরটা আজকাল খুব চুপচাপ,
শুধু ইটের দেয়ালে জমে থাকে
কয়েক হাজার মানুষের নিঃশ্বাস।
ব্রিকলেনের গলিতে হাঁটতে হাঁটতে
হঠাৎ মনে হয়…
এই শহর কি কাউকে মনে রাখে?
একসময় কতই না ব্যস্ত ছিল এই শহর,
সারি সারি রেস্তোরাঁর দরজায়
সহস্র মানুষের ভিড়,কথার ভেতর কথা,
হাসির ভেতর হাসি কোলাহলমুখর সেই দিনগুলো
আজও মনে পড়ে।
একেকজন মানুষ আসে, একেকটি ব্যাগ নিয়ে।
আর…
পকেট থেকে বের করে এক টুকরো দেশ।
কেউ নিয়ে আসে মায়ের হাতের গন্ধ,
কেউ নদীর পাড়, কেউ ফেলে আসা উঠোনের এক মুঠো মাটি।
তারপর সারাদিন….
টাকার হিসাব, কাজের সময়, ট্রেনের দরজা আর ফেরার পথ।
সবকিছু পেরিয়ে রাতে সে নিজের কাছে ফিরে আসে।
কিন্তু…নিজের ঘর কোথায়?
জানালার ওপারে অন্য ভাষায় কথা বলে বাতাস,
অন্য দেশের বৃষ্টিতে ভিজে যায় শৈশবের উঠোন।
মায়ের ডাকে যে ঘুম ভাঙত একদিন,
আজ অ্যালার্মের শব্দে একটি প্রবাসী সকাল শুরু হয়।
ব্রিকলেনের দেয়ালে কত নাম লেখা নেই…
কত মানুষ এখানে এসেছিল,
কেউ রয়ে গেছে, কেউ চলে গেছে,
কেউ শুধু স্মৃতির ভেতর
একটি পুরোনো ঠিকানা হয়ে আছে।
কেউ কেউ আবার এই শহরের ভিড়েই হারিয়ে গেছে…
নামহীন,ঠিকানাহীন, শুধু একটি গল্প হয়ে।
তবুও এই শহর আমাদের।
কারণ শহর মানে শুধু রাস্তা নয়,
শহর মানে…যে মানুষগুলো নিজেদের গল্প
ইটের ফাঁকে ফাঁকে রেখে যায়।
ব্রিকলেনের প্রতিটি দেয়াল তাই শুধু ইট নয়…
এখানে লেগে আছে ঘাম, অপেক্ষা, স্বপ্ন
আর হাজারো প্রবাসী হৃদয়ের
নিঃশব্দ হাসি আর কান্না।
তাই ব্রিকলেনের আলো নিভে গেলে
আমি দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকি…
হয়তো কোন একদিন আমাদের অচেনা মুখগুলোও
এই শহরের ইতিহাস হয়ে যাবে।
আর কেউ একজন একটি পুরোনো পত্রিকা খুলে বলবে…
এই মানুষগুলোও একদিন শহরটাকে ভালোবেসেছিল।