৩ জুলাই ২০২৬ | অমৃতাঙ্গন, বরিশাল, বাংলাদেশ
হিন্দু এইড ইউকে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের বরিশালের অমৃতাঙ্গনে সফলভাবে একটি ত্রাণ বিতরণ ও জীবিকা পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বী করে তোলার অঙ্গীকার আবারও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এই কর্মসূচি সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উজ্জ্বল দেবনাথ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বর্ণিল স্বর্গ মৈত্র-এর পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মাধ্যমে, যা অনুষ্ঠানে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। এরপর হিন্দু এইড ইউকে-এর যুব সমন্বয়কারী শুচিশ্মিতা মৈত্র একটি ভক্তিমূলক ভজন পরিবেশন করেন। গিটারে তাঁকে সঙ্গ দেন স্বর্ণিল স্বর্গ মৈত্র।
এরপর উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মানিক মুখার্জী এবং মুকুল চন্দ্র মুখার্জী। তাঁরা সমাজসেবায় ঐক্য, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং হিন্দু এইড ইউকের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনা পর্ব শেষে হিন্দু এইড ইউকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ত্রাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬টি অসহায় পরিবারকে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সম্বলিত রেশন বক্স প্রদান করা হয়, যাতে তাদের তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব হয়।
জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জীবিকা পুনর্বাসন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়। এর আওতায় দুটি পরিবারকে তাদের ছোট ব্যবসা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সামগ্রী দেওয়া হয় এবং আরেকটি পরিবারকে আয়ের একটি স্থায়ী উৎস গড়ে তুলতে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
হিন্দু এইড ইউকের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুব সমন্বয়কারী শুচিশ্মিতা মৈত্র বলেন, সংগঠনটি ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থাকবে এবং এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যা একদিকে যেমন তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে, অন্যদিকে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এই সফল কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ, সকল স্বেচ্ছাসেবক, দাতা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা সকলের প্রতি হিন্দু এইড ইউকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতার ফলে অসহায় পরিবারগুলো শুধু জরুরি ত্রাণই নয়, বরং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর একটি বাস্তব সুযোগও পেয়েছে।