ভারতপন্থী’, ‘মালাউন’, ‘এজেন্ট’ তকমা
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের চক্র ভাঙতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
তারেক রহমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পূর্তিতে প্রকাশিত এক মূল্যায়নে সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, নজরদারি, হামলা ও অপপ্রচারের যে সংস্কৃতি দেশে তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সিপিজে ১০টি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে বলে দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনটির ১০ দফার মধ্যে একটি সুপারিশ বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে গণমাধ্যম গবেষকদের। সেটি হলো–সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘ভারতপন্থী’, ‘ইসলামবিরোধী’, ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘সাবেক সরকারের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে পরিচালিত অপপ্রচার বন্ধ করার বিষয়ে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের প্রচারণা শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং তথ্যসূত্রদেরও ভীত করে তোলে। গত ২ জুন সিপিজের ওয়েবসাইটে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
দেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় সংগঠনটির এ পর্যবেক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত অপপ্রচারের প্রবণতাও দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
যেসব সাংবাদিককে সাবেক আওয়ামী লীগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়েছে ও যাদের নাম, পারিবারিক বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে অনলাইনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
গবেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ দেশের গণমাধ্যমে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্বেগজনক দিক হলো রাজনৈতিক সমালোচনার সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে জড়িয়ে দেওয়া। সামাজিক মাধ্যমে অনেক সাংবাদিককে ‘ভারতের দালাল’, ‘র-এর এজেন্ট’, ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘মালাউন’ বলে আখ্যায়িত করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবেদন, সংবাদ বিশ্লেষণ বা লেখার জবাব তথ্য দিয়ে না দিয়ে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিশ্বাসের নিরিখে সংখ্যালঘু পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্য বানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে সামাজিক মাধ্যমে সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বেড়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ ও পেশাগত সমালোচনার পরিবর্তে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনা হচ্ছে। এসব প্রচারণা ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রায়ই তা অসংখ্য নেটিজেনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশে অতীতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সামাজিক বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমের, বিশেষ করে ফেসবুকের উসকানিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, নির্যাতন ও লুটপাটের অনেক ঘটনা ঘটে। অবশ্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে এখনো পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি।
তবে সাংবাদিক সমাজের ভেতর থেকে, বা সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে ধরনের প্রচারণা ড. ইউনূসের আমল থেকে দেখা যাচ্ছে, তা আগের যে কোনো তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান ও সংগঠিত।
অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের ‘প্রগতিশীল সরকার’ দাবি করলেও তখনো অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের ভেতর থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসের নিরিখে সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালাতে একটি অংশকে তৎপর থাকতে কম-বেশি দেখা গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে আওয়ামী লীগের সরকার কখনোই কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকের তখন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী, বা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
সিপিজে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ প্রচারমাধ্যম এবং অনলাইন ট্রল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ‘প্রো-ইন্ডিয়ান’, ‘অ্যান্টি-ইসলামিক’ বা ‘ট্রেইটর’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সংগঠনটির ভাষায়, এ ধরনের হেয়প্রতিপন্ন করার সংস্কৃতি অনেক সাংবাদিককে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে এবং অন্যদের স্থায়ী হুমকির মুখে ফেলেছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনাগত পুনর্বিন্যাস হয়। অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়, বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হন, অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, আবার অনেকে চাকরি হারান বা পেশাগতভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু।
যদিও এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কারণের কথা উল্লেখ করেছে, তবে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—ধর্মীয় পরিচয় কি কোনো না কোনোভাবে তাদের অতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না?
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, স্বদেশ রায়, অজয় দাশগুপ্ত, মুন্নী সাহা, সুকান্ত গুপ্ত অলক, অশোক চৌধুরী, প্রণব সাহা, রাহুল রাহা, অঞ্জন রায়, আশিস ঘোষ সৈকত, অখিল কুমার পোদ্দার, পুলক ঘটক, মানস ঘোষ, অনিমেষ কর, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, জয়দেব চন্দ্র দাস, মধুসূদন মণ্ডল, কিশোর কুমার সরকার, সুবাস চন্দ বাদল, রমাপ্রসাদ সরকার বাবু, সুভাস চন্দ্র সিংহ রায় ও সঞ্জয় সাহা পিয়াল প্রমুখের নাম বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন, বা সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। তারা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের রোষানলের শিকার হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক প্রচারণারও শিকার হন ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো সাংবাদিকের কাজ বা রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ছড়ানো বা তাকে বিদেশি শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা শুধু ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি তৈরি করে।
অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হলেও দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে দেখা যায় না। ফলে এমন প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব সাংবাদিকের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তাদের মতে, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তথ্যের নির্ভুলতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। অন্যথায় এটি শুধু সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক গণমাধ্যম পরিবেশের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।
গবেষকদের মতে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত। দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচারের মুখোমুখিও করা যায়। কারণ, আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। তবে সামাজিক মাধ্যমে আগে থেকেই তাকে ‘দেশদ্রোহী’, ‘বিদেশি এজেন্ট’ বা ‘মালাউন’ আখ্যা দিয়ে জনমত তৈরি করার প্রবণতা ন্যায়বিচারের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘মালাউন’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রদায়িক ইতিহাসে এ শব্দ দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবমাননার ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। কোনো সাংবাদিকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাকে আক্রমণ করা শুধু ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ নয়; এটি বৃহত্তর সম্প্রদায়ের প্রতিও নেতিবাচক বার্তা পাঠায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েক শিক্ষক অতীতে বিভিন্ন আলোচনায় বলেছেন, গণমাধ্যমের সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। সংবাদ ভুল হলে তার সমালোচনা হবে, সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়ে বিতর্ক হবে। কোনো সাংবাদিককে ‘বিদেশি শক্তির এজেন্ট’, ‘ধর্মবিরোধী’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করে জনরোষ তৈরি করার চেষ্টা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ নয়।
তাদের মতে, এ ধরনের প্রচারণা অনেক সময় বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করে। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া বিদ্বেষমূলক প্রচারণা পরবর্তীতে শারীরিক হামলা, হুমকি বা পেশাগত বঞ্চনার কারণ হতে পারে। এতে শুধু একজন সাংবাদিক নয়, একই পরিচয়ের অন্য সাংবাদিকেরাও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণার আরেকটি প্রভাব হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপ। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে কোনো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বা তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করা হচ্ছে, তখন ভবিষ্যতে তিনি একই ধরনের বিষয়ে লিখতে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রকাশ।
সিপিজে বলেছে, বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক পালাবদলের সময় সাংবাদিকেরা কোনো না কোনোভাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকার—তিনটি পর্যায়েই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, নজরদারি, আটক বা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির মতে, এ চক্র ভাঙতে হলে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং একই আইনি ও নৈতিক মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা সাধারণত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাইবার আইন, মামলা বা গ্রেপ্তারের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপপ্রচার, অনলাইন হয়রানি এবং পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষও সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। কারণ রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ যেমন সংবাদপ্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তেমনি সামাজিক ভয়ভীতির পরিবেশও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেখানে সিপিজের বার্তাটি তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। সংগঠনটির বক্তব্য হলো, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের চক্র শুধু আইন পরিবর্তন করলেই ভাঙবে না; একই সঙ্গে ভাঙতে হবে ঘৃণা, অপবাদ ও প্রতিশোধের সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিও, যা প্রতিটি ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন রূপে ফিরে আসে।
সিপিজে বলছে, সাংবাদিকদের ‘ভারতপন্থী’, ‘ইসলামবিরোধী’, ‘দেশদ্রোহী’ বা সাবেক সরকারের এজেন্ট আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার বন্ধ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। সরকারকে বারবার জনসমক্ষে ঘোষণা দিতে হবে, স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে—তা–ও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।