যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সুবিধার আওতায় গত এক বছরে প্রায় ১৫ লাখ অভিবাসী সরকারি ভাতা গ্রহণ করেছেন।
ব্রিকলেন এডিটোরিয়াল ডেস্কঃ
প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP) এই সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোল (CMC) কর্তৃক ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আইনের মাধ্যমে সংগৃহীত এই তথ্যে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাওয়া ৯.৬ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রতি ছয় জনের একজনই ছিলেন অভিবাসী (১৫.৬ শতাংশ)।
এই তথ্য প্রকাশের পর বর্তমান লেবার সরকারের ওপর অভিবাসন নীতি কঠোর করার চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত ২০২২ ও ২০২৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সময় যুক্তরাজ্যে আসা বিদেশি কেয়ার ওয়ার্কার এবং তাদের নির্ভরশীলদের সরকারি সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই বৃহৎ জনশক্তি যদি চলতি বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের (ILR) অনুমতি পায়, তবে তাদের আজীবন ভাতা ও অন্যান্য জনসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুবিধাভোগী ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৪ জন অভিবাসীর মধ্যে ২ লাখেরও বেশি ছিলেন শরণার্থী অথবা মানবিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তি। এদের বড় একটি অংশ ইউরোপিয়ান সেটেলমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি (ILR), শরণার্থী মর্যাদা অথবা মানবিক সুরক্ষা পাওয়ার সাথে সাথেই সরকারি ভাতার দাবি করতে পারেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কনজারভেটিভ পার্টি, রিফর্ম ইউকে এবং লেবার পার্টি, সব পক্ষই এই সুবিধা প্রদানের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।
নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিবাসীরা স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, যাতে তারা হুট করেই সরকারি ভাতা দাবি করতে না পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মনে করছে, অভিবাসীরা ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার পরেই কেবল এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এই ১৫ লাখ দাবিদারের সংখ্যা ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নথিভুক্ত ১৩ লাখ নিয়মিত গ্রাহকের চেয়ে প্রায় ২ লাখ বেশি, কারণ এতে অনেক সাময়িক দাবিদারও অন্তর্ভুক্ত আছেন যারা পরে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ায় ভাতার আওতা থেকে বেরিয়ে গেছেন।