যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জয়জয়কার থাকলেও ওয়েলস পার্লামেন্টে (সেনেড কামরি) এখনও কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।
ব্রিটিশ বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হারুন-অর-রশিদ আসন্ন Senedd election 2026-এ Welsh Liberal Democrats-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নে মোল্লাপাড়া গ্রামে জন্ম হারুন- অর – রশীদের । ধুলোমাখা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। পড়াশোনা ও কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে আসেন। প্রবাস জীবনের সংগ্রাম ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসা, কমিউনিটি কাজ ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
রাজনৈতিক উত্তারিধাকার নিয়েই পথচলা শুরু,
ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। নেতৃত্ব তাঁর স্বভাবজাত, স্কুল ক্যাপ্টেন থেকে শুরু,কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি,জিএস নির্বাচন করেছেন হারুন। সমানুষের জন্য কাজ করার অদম্য সেই প্রয়াস, প্রবাসে ও ধারণ করে চলেছেন ,দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুধাবন করেছেন ।অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে থেকেই সম্ভব। আর সেই কারণেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে সংসদ নির্বাচন কে বেছে নিয়েছেন।
মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি নির্বাচনী সাওয়ার হয়েছেন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি। এছাড়া ছোট ব্যবসা, অভিবাসী কমিউনিটি এবং তরুণদের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চান হারুন
তিনি বলেন, আমাদের কমিউনিটি অনেক অবদান রাখছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে থাকে। আমি চাই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমি বিভিন্ন সংগঠন, চ্যারিটি ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।
পাশাপাশি সাংবাদিকতা আমাকে মানুষের কথা শুনতে ও সত্য তুলে ধরতে শিখিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবভিত্তিক করেছে।
আর তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারা যেন সচেতনভাবে ভোট দেয় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নেয়। আমি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই।
আমি চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বিশেষ করে বাংলাদেশী বংশদ্ভোতদের উদ্দেশ্য বলেন, আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো।
উল্লেখ্য এবার ওয়েলস পার্লামেন্ট (সেনেডের )আসন” সংখ্যা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৯৬ করা হয়েছে এবং নতুন নির্বাচনী পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে, ১৯৯৯ সালে ওয়েলস পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ‘মেম্বার অব দ্য সেনেড’ (এমএস) হিসেবে নির্বাচিত হননি।স্বল্প জাতিগত বৈচিত্র্য: বিদায়ী ষষ্ঠ সেনেডে (২০২১-২০২৬) ৬০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন (৫%) ছিলেন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর। এর মধ্যে ভন গেথিং (সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার), নাতাশা আসগর এবং আলতাফ হুসাইন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তাদের কেউই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নন।
২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা: আসন্ন নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকায় কিছু বাংলাদেশি নাম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কার্ডিফ ও সোয়ানসি অঞ্চলের তালিকায় হারুন-অর – রশিদ ও দিলওয়ার আলী-র মতো প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।
ওয়েলসে বাংলাদেশিরা পিছিয়ে থাকলেও ব্রিটেনের অন্য অংশে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন:
• ব্রিটিশ পার্লামেন্ট: রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক ও আফসানা বেগমের মতো চারজন দাপুটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
২০২১ সালে ফয়সল চৌধুরী প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সেনেডের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েলসের বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, শুধুমাত্র প্রার্থী হওয়াই যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যোগ্য প্রার্থীদের তালিকার উপরের দিকে স্থান দিতে হবে যাতে তাদের নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আগামী ৭ মে-র নির্বাচনই বলে দেবে, ওয়েলস পার্লামেন্টের দরজায় শেষ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির নামফলক উঠবে কি না।




