Skip to main content

Brick Lane News

যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি

যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি সংশ্লিষ্ট কেউ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।

এর মধ্যে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় ছিল।

তবে বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। চলতি মাসের শুরুতে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলেও সূত্রগুলোর দাবি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি, বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি এখনো ‘গুঞ্জনই’। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হতে পারে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের পর কে নতুন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম আলোচনায় এসেছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নামও আলোচনায় ছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের  পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তবে সংবিধান অনুযায়ী তার কাছেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারও তার কাছেই শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি তুললেও বিএনপি তখন তাকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা চলছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডন সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।