রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত পিচ্চি রাজাকে গত ১৯ মে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাকেসহ মোট ২৯ জন আসামিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে ঘটে অভিনব এই পলায়নের ঘটনা।
তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো আকস্মিক পলায়নের ঘটনা ছিল না। পুলিশের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত একটি নাটক। এই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে পাহারার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনাটিই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
ঘটনার দিন রাতে প্রিজনভ্যানটি ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পৌঁছালে থামানো হয়। ভ্যানের ইনচার্জ এসআই প্রবীর চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি চেয়ে নিয়ে ভ্যানের তালা খোলেন। এরপর পিচ্চি রাজাসহ দুই হাজতিকে নিচে নামানো হয়। তবে অন্য হাজতি খাইরুল বাশারকে পুনরায় ভ্যানে তোলা হলেও পিচ্চি রাজাকে আর ভেতরে নেওয়া হয়নি। কিন্তু, আট দিন পর সেই গল্পের আড়ালে নাটকের চিত্রনাট্য সামনে এসেছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাস্তার পাশে আগে থেকেই একটি প্রাইভেটকার অপেক্ষায় ছিল। এসআই প্রবীর পরিকল্পিতভাবে ওই মাদক কারবারিকে সেই গাড়িতে তুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রবীর কুমার শৌচাগারে যাওয়ার বাহানায় আসামি নিখোঁজ হওয়ার একটি ভুয়া গল্প সাজান। পরে রচিত হলো ‘আসামি পালিয়ে যাওয়া’র গল্প। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখিয়ে তিনি আবার পাহারা দেওয়া পুলিশ দলের সঙ্গে যোগ দেন। এভাবেই প্রিজনভ্যান থেকে পরিকল্পিতভাবে বের করে দেওয়া আসামির ঘটনাকে ‘পলায়ন’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনায় জালিয়াতি ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব এবং শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে পিচ্চি রাজা পলাতক রয়েছেন। গত আট দিন ধরে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা হলেও এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এখনো চলমান আছে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see।