পাবনা সদর উপজেলায় একটি ভবনের বেজমেন্টে তৈরি ‘গোপন কক্ষ’ থেকে দুটি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি যুবদলের কর্মী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকার একটি ভবনের বেজমেন্টে চোরাই গরু লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেজমেন্টে তৈরি একটি গোপন কক্ষ থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় শরিফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
আটক শরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর সাদীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইসমাইল গুন্ডির ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনটির মালিক শরিফুল ইসলাম। ভবনের একটি কক্ষে যুবদলের ব্যানার টাঙিয়ে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আর ওই বেজমেন্টে তৈরি গোপন কক্ষে চোরাই গরু রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
শরিফুল ইসলাম আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাবনা জেলা যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার তোলা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে তাকে যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। একটি ছবিতে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসাইনকে শরিফুলকে কেক খাওয়াতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসাইন বলেন, আমি তাকে চিনি। তিনি বিভিন্ন সময় আমাদের কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তবে তিনি যুবদলের কোনো কমিটির সদস্য নন। কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরুসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া গরুর প্রকৃত মালিক শনাক্তের পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।