বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাইল রিজিয়নের অন্তর্ভুক্ত ১৩টি ব্যাটালিয়ন চলতি বছরের গত নয় মাসে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ সাফল্য প্রদর্শন করেছে। এই সময়ের ব্যবধানে সীমান্তজুড়ে পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে প্রায় ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অভিযানের এসব তথ্য তুলে ধরেন ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ১৩টি ব্যাটালিয়ন গত ৯ মাসে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে।
সীমান্ত নজরদারি ও অপারেশনাল কর্মকাণ্ড
সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ১,২০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল—এই চারটি সেক্টরের অধীনে থাকা ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সার্বক্ষণিক নজরদারি ও কঠোর টহল পরিচালনা করছে। এই নিবিড় তদারকির মাধ্যমেই অপরাধীদের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অবৈধ পথে আসা অস্ত্রের চালানের পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আটকেও জোরালো ভূমিকা পালন করেছে বিজিবি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১টি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৭টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান এবং ৬২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর ও ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার জব্দ করা হয়।
মাদক ও অবৈধ সম্পদ উদ্ধারে সাফল্য
- বিজিবির মাদকবিরোধী ব্যাপক অভিযানে ৩ লাখ ১২ হাজার ৯১০ পিস ইয়াবা এবং ১৩ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা জব্দ হয়েছে।
- এছাড়া ৬২ হাজার ৬৭৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার, ১৫ হাজার ৫৮১ বোতল ফেনসিডিল এবং ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ পিস যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
- মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে মোট ৩০৫ জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ৯০০ ঘনফুট পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
ব্রিফিংকালে অধিনায়ক লে. কর্নেল জাকারিয়া কাদির উল্লেখ করেন, একটি নিরাপদ সীমান্তই শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দেশের অন্যতম ভিত্তি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তবাসীর আস্থাকে নিজেদের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রেখে সীমান্তে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি অভিযানের উদ্দেশ্য কেবল মালামাল জব্দ করা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সীমান্তে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা চোরাচালান রোধে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতেও বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।