Skip to main content

Brick Lane News

স্বাধীন বাংলায় জিন্নাহ-বন্দনা: ইনকিলাব মঞ্চের ধৃষ্টতায় ফুঁসছে নেটদুনিয়া

স্বাধীন বাংলায় জিন্নাহ-বন্দনা: ইনকিলাব মঞ্চের ধৃষ্টতায় ফুঁসছে নেটদুনিয়া

প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূল ভিত্তি হলো আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন। বায়ান্নর রক্তস্নাত সেই ইতিহাসের অন্যতম প্রধান খলনায়ক পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

অথচ, সেই জিন্নাহকেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন। ভাষার জন্য যে জাতি অকাতরে প্রাণ দিয়েছে, সেই স্বাধীন ভূখণ্ডে বাংলা ভাষার ঘোর বিরোধী জিন্নাহর এমন বন্দনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা এটিকে একটি ‘ঘৃণ্য কাজ’ ও ‘ইতিহাসের চরম অবমাননা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

ইতিহাসের খলনায়ক এবং রক্তাক্ত বায়ান্ন

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জিন্নাহ দাম্ভিকতার সাথে ঘোষণা করেছিলেন, “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” তার এই একরোখা ঘোষণার পরই মূলত পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলনের দাবানল জ্বলে ওঠে। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ।

সেই ঐতিহাসিক ভিলেন জিন্নাহকে ঘিরে ইনকিলাব মঞ্চ যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনমূলক সভার আয়োজন করেছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা এবং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।

799869677 122196422714477538 3349070337612397636 n স্বাধীন বাংলায় জিন্নাহ-বন্দনা: ইনকিলাব মঞ্চের ধৃষ্টতায় ফুঁসছে নেটদুনিয়া
ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পোস্ট

নেটদুনিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নেটিজেনদের মূল প্রতিবাদী আর্গুমেন্টগুলো হলো:

  • শহীদদের অবমাননা: যে ব্যক্তি আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, স্বাধীন বাংলায় তার বন্দনা ভাষা শহীদদের রক্তের সাথে চরম বেঈমানি।

  • ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা: ইতিহাসের মীমাংসিত একজন ভিলেনকে নতুন করে মহিমান্বিত করার চেষ্টা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

  • চেতনায় আঘাত: স্বাধীন দেশে এমন একটি সংগঠন কীভাবে প্রকাশ্যে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাসের কাঠগড়ায় যে ব্যক্তি বাঙালির কাছে একজন স্বৈরাচারী ও ভাষাবিদ্বেষী হিসেবে প্রমাণিত, তাকে সম্মান জানানোর এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মের মৌলিক আদর্শের ওপর সরাসরি আঘাত। সচেতন নাগরিকদের দাবি, স্বাধীন বাংলাদেশে জিন্নাহ-বন্দনার মতো ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে এখনই তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মুল সংবাদঃ

উর্দুকে ‘একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ করতে চাওয়া ইতিহাসের ‘ঘৃণিত ব্যাক্তি ও  ভিলেন’ খ্যাত জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। দিনটি ছিল জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা ও ঘৃনার প্রকাশ করেছেন নেটিজেনেরা।
ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টে জিন্নাহকে ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা’ এবং পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টের ছবিতে জিন্নাহর প্রতিকৃতির নিচে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখও দেওয়া হয়েছে- ২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮।
বিস্তারিত-

‘ইতিহাসের ভিলেন’ খ্যাত জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করলো হাদির ইনকিলাব মঞ্চ!